২১/০২/২০২৬, ১৪:৪৭ অপরাহ্ণ
33.3 C
Dhaka
২১/০২/২০২৬, ১৪:৪৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাজারে ফলের দাম চড়া খরচ বাড়ছে ইফতারে

রমজান মাসে বেড়ে যায় ফলের চাহিদা। প্রতিবছরের মতো এবারও এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। দেশি-বিদেশি সব ফলের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছেন তারা। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে অস্বাভাবিক আকারে। ফলে বেশি দামের কারণে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে কম ফল কিনছেন। 

বিজ্ঞাপন

আমদানিকারক ও পাইকাররা আমদানি মূল্য এবং পরিবহন খরচ বাড়ানোর দোহাই দিলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান ঘিরে সিন্ডিকেট ব্যবসার পুরোনো রূপই ফিরে এসেছে বাজারে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফার বদলে অতি-মুনাফার দিকে ঝুঁকছেন। ফলের বাজার ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারকে ফলের আমদানি মূল্য ও বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে।

কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে খেজুরের দাম
বাজারে এখনও সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি খেজুরে। সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পর আমদানি দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু শুল্ক কমানোর সুবিধা 
ক্রেতা পর্যায়ে পৌঁছেনি। গত চার-পাঁচ দিনে কেজিতে ৩০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছরের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ফলে আমদানি করা প্রিমিয়াম মানের খেজুর এখন ক্রেতার নাগালের বাইরে।
বাজারে সাধারণ মানের খেজুরের কেজি গত বছর ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার খরচ হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। জাহেদি খেজুরের কেজি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এ ধরনের খেজুরের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। দামি খেজুরের মধ্যে মেডজুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা। আজওয়া ও মরিয়ম জাতের খেজুরের কেজি ৯০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এ সময় এই দুই জাতের খেজুর কেনা গেছে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই বাদামতলীর আমদানিকারকরা খেজুরের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েছেন। তারা হঠাৎ খেজুরের সংকট দেখাচ্ছেন। এ কারণে প্রতি কার্টনে (৫ কেজি) অন্তত ৫০০ টাকা দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে খুচরায়ও বেড়েছে।

বিদেশি ফলের দরদাম
ভালো মানের আপেল এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। গত বছর এ সময় কেজি ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মাল্টা ও কমলার ক্ষেত্রেও একই চিত্র; কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। চার-পাঁচ দিন আগে অন্তত ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে ফল দুটি। গত বছর রোজার শুরুতে মাল্টা ও কমলার কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। আঙ্গুরের দাম আরও বেশি। প্রজাতিভেদে প্রতি কেজিতে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। যদিও গত বছরের এ সময় আঙ্গুরের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ছিল।

দেশি ফলের বাজারও চড়া 
দেশি ফলেরও দাম বেড়েছে। তরমুজ ও কলার চাহিদা তুঙ্গে। পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির বদলে সব জায়গায় প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর কেজি কেনা গেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বাংলা কলার ডজন কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। চার-পাঁচ দিন আগেও এ জাতের কলা কেনা গেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। যা গত রোজার তুলনায় অন্তত ২০ টাকা বেশি। গত বছরে রোজায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হয়েছিল।

কলার ডজনেও গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। প্রতি ডজন সবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। তুলনামূলক কম দর চম্পা কলার। প্রতি ডজন কেনা যাচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। পাকা পেঁপের দরও বেড়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। গত বছর যা ছিল ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। কিছুটা কমে মিলছে আনারস। আকারভেদে প্রতি পিস কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকায়। গত বছর দর ছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা।
এদিকে রোজা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই লেবুর দর নাগালের বাইরে চলে যায়। ছোট আকারের এক হালি লেবু কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর মাঝারি আকারের লেবুর হালি কিনতে লাগছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা। অথচ গত বছর রোজার শুরুতে লেবুর হালি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। 

গতকাল আরও চড়া দেখা গেছে শসার দর। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে শসার কেজি কেনা গেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদুর রহমান বলেন, এমন কোনো ফল নেই যেটির দাম 
বাড়েনি। যেখানে দু-তিন কেজি করে ফল কিনি, সেখানে এখন এক কেজির বেশি কেনা কষ্টকর। পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে 
উঠছে। তাদের লাগাম না টানলে সাধারণ মানুষের বিপদ বাড়বে।
এ ব্যাপারে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিযেশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সমকালকে বলেন, রমজানে দেশি-বিদেশি সব ফলের দাম বেশি। বিশেষ করে খেজুরের দাম লাগামহীন। বিদেশি ফলের আমদানি ব্যয় কত আর পাইকারি পর্যায়ে সেগুলো কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা যাচাই করা দরকার। নতুন সরকার যদি এখনই বাজারের লাগাম টানতে না পারে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

পড়ুন:দুই দফা পতনের পর ফের বাড়ল সোনার দাম

দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন দেশ কত পেলো? | 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন