জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী মৌজার মলমগঞ্জ বাজারে এলজিইডির ‘প্রভাতি’ প্রকল্পের আওতায় বাজার উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে একদল প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বাধা প্রদান ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ১ নং খতিয়ানভুক্ত মলমগঞ্জ বাজারের ১৭৪৫ নং দাগে প্রায় ২৮ শতক জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০টি দোকান পরিচালিত হয়ে আসছে। বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে এলজিইডির ‘প্রভাতি’ প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দোকানগুলো সাময়িকভাবে স্থানান্তরের জন্য গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৪০ জন দোকানি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
পরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বণিক সমিতির মাধ্যমে সাব-ঠিকাদারি ভিত্তিতে প্রায় ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৯০ টাকার কাজ শুরু হয়। প্রায় ১৫ দিন আগে কাজ শুরু হলেও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
মলমগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সামছুল হক প্রধান অভিযোগ করে বলেন, “বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর থেকেই একটি সিন্ডিকেট আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করছে। শুধু তাই নয়, আম্বিয়া নামে কথিত এক মহিলাকে দোকানি সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারও চালানো হয়েছে। আমরা এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল প্রধান বলেন, “বিগত সরকার আমলেও তারা এই এলাকাকে চাঁদাবাজির আখড়ায় পরিণত করেছিল। এখনো একই কাজ করার চেষ্টা করছে। আমরা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
বণিক সমিতির উপদেষ্টা ফিরুজ আহাম্মেদ বলেন, “আবদুল হালিম সচিবের ছোট ভাই লুলু আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বাজার উন্নয়ন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছন।


