চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকতার হোসেন এক জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি নিজে দেখেছি—একজনের ছবি পাঠিয়ে বলা হয়েছে গ্রেপ্তার করতে হবে। এরপর সেই ছবি নিয়ে হয়েছে বাণিজ্য। কে করেছে, কত টাকা নিয়েছে, সব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। যার বুকে সৎ সাহস আছে, সে এসে প্রমাণ চাইতে পারে।”
মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, “এই জেলায় রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। কেউ একজন গ্রেপ্তার হলে এক পক্ষ বলে সে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত না, আরেক পক্ষ বলে সে টিপুর ছাত্র। তাহলে আমরা কার কথা শুনব? তদন্তে সহযোগিতা না করে বাইরে গিয়ে চুপ থাকলে বিচার হবে কিভাবে?”
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই শহিদ পরিবারের সম্মিলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
এসপি আকতার আরও বলেন, “আপনারা মঞ্চে সাহসী কথা বলেন, কিন্তু পুলিশের সামনে এসে তথ্য দেন না। আমি চাই, আপনারা সাহস করে এগিয়ে আসুন, ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিন। সেদিন টিপুর বাহিনী কী করেছিল, কারা নেতৃত্বে ছিল, কারা হামলা করেছে—এসব তথ্য দিন। তাহলেই তদন্ত সঠিক হবে, ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
তিনি বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বৈষম্য দুই ধরনের—মানসিক এবং বাস্তবিক। পুলিশ যখন কাজ করতে চায়, তখন নানা বাধা আসে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা সঠিকভাবে বিচার করতে পারি না। তাই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”
এসপি আকতার হোসেনের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং নাগরিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, এটি পুলিশের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি একটি বার্তা। এখন দেখার বিষয়—এই সাহসী আহ্বানে কে সাড়া দেন, আর কে চুপ থাকেন।
পড়ুন : লক্ষ্মীপুরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের র্যালি, আওয়ামী লীগ-যুবলীগের বিচারের দাবি


