আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দলীয় সূত্র বলছে, ইতোমধ্যেই প্রায় দুই শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। আরও প্রায় ৫০টি আসনে যাচাই-বাছাই ও মতামত নেওয়ার কাজ চলছে। সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আসন সমন্বয় শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান শরীফ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সভাপতি দেশের ব্যবসায়ী আইকন মাহমুদ হাসান খান বাবু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের গুডবুকে আছেন এবং দলের গ্রিন সিগন্যালে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই দুজনই পেতে যাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ড থেকেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। যদিও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রদল নেতা শামসুজ্জামান দুদু, চুয়াডাঙ্গার সাবেক প্রয়াত এমপি সহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের কন্যা সাবেক ছাত্রদল নেত্রী মিলিমা ইসলাম বিশ্বাস মিলি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ উর জামান সিজার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়া বাবু খান ছাড়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির অন্য কোনো নেতার নাম এখনো শোনা যায়নি। যদিও মাঝেমধ্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত শিল্পপতি হাজী মোজাম্মেল হকের কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিথুনের নাম ও আরেক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিপু তরফদারে নামও শোনা যায়। তবে তাদের কাউকে দলীয় কার্যক্রমে ওইভাবে থাকতে দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে টিপু তরফদারকে বিভিন্ন কার্যক্রমে দেখা যায়, তবে সেটা মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তাকে এগিয়ে রাখবে না।
তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না বলেও বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেন।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার একেবারে তৃণমূলের অনেক নেতার সাথে কথা হলে, তারা জানান, ৫ আগষ্টের আগে আমরা শুধু শরীফুজ্জামানকে পেয়েছি। তিনি একটা নড়বড়ে সংগঠনকে দুর্দিনেই সুসংগঠিত করেছেন। তখন শরীফুজ্জামান ছাড়া কাউকে আমরা পায়নি। আর এই সুদিনে সবাই নমিনেশন চাচ্ছেন। শরীফুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এমপি হবে এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা তাকেই চাই।
অন্যদিকে, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক নেতা জানান, বাবু খান গত ১০-১৫ বছর যেভাবে দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। অন্যকোনো নেতাকে সেভাবে আমরা পায়নি। আমরা আমাদের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে তাকেই এমপি হিসেবে চাই।
এই নেতারা আরও বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান খুব সাংগঠনিক মানুষ। তিনিও যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সত্যিই তার প্রশংসা করতে হয়।
জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দলের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। তাই মাঠ জরিপের ফলাফল, তৃণমূলের মতামত ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে নিয়মিত প্রার্থীদের সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া বিশেষত যেসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেখানে ঐক্য ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে বিভাজন সৃষ্টি করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তবে তিনি জানান, প্রার্থী চুড়ান্তে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ চলছে। আর কাউকে কোনো সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ও প্রচার শুরু করেছে। বিএনপিও মৌখিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় হতে বলছে, যাতে ভোটযুদ্ধে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা যায়।
পড়ুন: নেত্রকোনায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য, রিমান্ডে মাস্টারমাইন্ডের নাম ফাঁস
ইম/


