ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, চাঁদা না দেওয়ার জন্য পাথর মেরে হত্যা করা হবে, এজন্য বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করে নাই। মেয়ে বিয়ে না দিলে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হবে, এজন্য মানুষ জীবন দেয় নাই। আজকে দেখতেছি যারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করতেছে, সব জায়গায় চাঁদাবাজি।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছিলাম, কিন্তু কোনো আদালত ন্যায়বিচার করতে পারছে না। আপনি গিয়ে দেখেন নরসিংদী আদালতের অবস্থাটা কি, সেখানে একদল মানুষ গিয়ে চাপ প্রয়োগ করে। অমুকের ব্যাপারে কোনো উকিল দাঁড়াতে পারবে না, এমনি বিচারককে চাপ প্রয়োগ করে অমুকের পক্ষে রায় দিতে হবে। যদি এখনো বিচারালয় স্বাধীন না থাকে, তাহলে এ আন্দোলন সাকসেস হয় নাই, যুদ্ধ শেষ হয় নাই, আবারও যুদ্ধ করতে হবে, আবারো সংগ্রাম করতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী পৌর ঈদগাহ মাঠে ইসলামী জেলা শাখার আয়োজিত যুব আন্দোলনের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

তিনি বলেন, জুলুম, অত্যাচার, গুম, খুন বন্ধ করতে হবে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি এমন একটি দল, ওখানে যদি ফেরেশতাও ঢুকে, বের হবে আজাদী হয়ে। ভালো মানুষ ঢুকবে, খুনি হয়ে বের হবে। এটা এমন একটা ফ্যাক্টরি, যেখানে ভালো মানুষ ঢুকবে, খারাপ হয়ে বের হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন এমন একটা ফ্যাক্টরি, এখানে খারাপ মানুষ ঢুকবে, ভালো হয়ে বের হবে। জিয়াউর রহমান সাহেবের ভালোর কারণে ২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলেন, কিন্তু পরীক্ষায় ঠিকেন নাই। তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। র্যাব কেন গঠন হয়েছে জানেন? হত্যা, গুম, খুন বেড়ে গিয়েছিল, এজন্য র্যাব গঠন করেছে বিএনপি। সেই বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি র্যাবের হাতে ক্রসফায়ার হয়েছে।
এতে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা কমিটির সভাপতি মুফতি সাইদ আহমদ সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম. এম. মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) আরিফ বিন মেহের উদ্দীন।
এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মোল্লা, সহ-সভাপতি আশরাফ হোসেন ভূঁইয়া, মুফতি কাউসার আহমদ ভূঁইয়া, মাওলানা মুসা বিন কাসিম, যুব আন্দোলন নরসিংদী জেলা কমিটির উপদেষ্টা মুফতি ফরিদ উদ্দীন, সেক্রেটারি মো. রাকিবুল হাসান, সহ-সভাপতি মাওলানা মোবারক হোসাইন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত পাঁচ সংসদ সদস্য প্রার্থী—নরসিংদী-১ (সদর) থেকে মাওলানা শওকত হোসেন সরকার, নরসিংদী-২ (পলাশ) থেকে ইঞ্জিনিয়ার মুহসিন আহমেদ, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) থেকে মাওলানা ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া, নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) থেকে মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রধান এবং নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) থেকে মাওলানা মুহাম্মদ বদরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশকে স্বাগত জানিয়ে নরসিংদীতে পদযাত্রা


