ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে জামায়াত। তাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ আরও বেশ কয়েকটি দল।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত ভোটেরসংখ্যা ও হারের দিক থেকে বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
অন্যদিকে, বিগত তিনটি সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টির ভোটে বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ২৯০ জন প্রার্থী নিয়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ। এরপরেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ জন প্রার্থী নিয়ে ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৬৩৯টি ভোট পেয়েছে, যার হার ৩১.৭৬ শতাংশ।
এছাড়া ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৫.৭৯ শতাংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট (৩.০৫%) পেয়ে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছে।
বিগত তিনটি নির্বাচনে বিরোধী দলের আসন দখল করে রাখা জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দলটি ভোট পেয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২টি (০.৮৯%)। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার এবং এবি পার্টি ২ লাখ ১০ হাজার ভোট পেয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের ঘরে ভোট পেয়েছে ১২টি দল। এর মধ্যে নতুন নিবন্ধন পাওয়া জনতার দল ৩৭ হাজার ৪০১ ভোট এবং বাসদ (মার্কসবাদী) পেয়েছে ১৩ হাজার ২৩৫ ভোট।
অনেকে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের বৃত্তে আটকে ছিলেন। প্রভাবশালী নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য পেয়েছে ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট। অনশন করে নিবন্ধন পাওয়া তারেকের আমজনতার দল সারাদেশে পেয়েছে ৬ হাজার ২০৯ ভোট। আর ড. কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠিত গণফোরাম পেয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬৬ ভোট। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫টি দল সারাদেশে ১ হাজার ভোটও সংগ্রহ করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

