কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য(এমপি) প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে এক সরকারি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ওই সরকারি কর্মকর্তার নাম ডা: হোসেন ইমাম। তিনি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও)।
মঙ্গলবার(১০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া-৩(সদর উপজেলা) ও যুগ্ম দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম কারণ দর্শানোর নোটিশটি স্বাক্ষর করেন। নোটিশে আগামীকাল(বুধবার) বিকেল ৩টায় হোসেন ইমামকে কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আরেকটি অভিযোগে প্রেক্ষিতে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একই আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এমন অভিযোগ দাখিল করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে,অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি এবং সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নোটিশে নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বেলা দেড়টার সময় আরএমও হোসেন ইমাম বলেন,বিভিন্ন মাধ্যমে আমি জেনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নোটিশ হাতে পাইনি।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন,একদিন আরএমওর এলাকায় গণসংযোগে গিয়েছিলাম। ওইদিন তার সাথে দেখা হয়েছিল। এর বাইরে তিনি আমার প্রচারণায় অংশ নেননি।
এদিকে রাশেদ আহমেদ নামে একজন সাধারণ ভোটারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য(এমপি) প্রার্থী আমির হামজাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। এছাড়া তাকে হ্যান্ডবিল ব্যানার,ফেস্টুন ব্যবহারে সতর্ক করা হয়।
জানতে চাইলে সদর উপজেলায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা মো.আরিফুল ইসলাম সার্বিক বিষয়ে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।


