বিজ্ঞাপন

বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে নির্বাচন কমিশন

‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিএনপি কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘ইসি পুনর্গঠন ছাড়া এনসিপি কোনো ভোট করতে দেবে না। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে।’ ইসি পুনর্গঠন এবং অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনসিপির অবস্থান কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। দলটির ঢাকা মহানগর শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আসা নেতারা বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
নির্বাচন ভবনের সামনে কর্মসূচি ঘিরে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এনসিপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে অবস্থান নেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল থেকে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। ভবনের সামনের রাস্তায় বসানো হয়েছিল কাঁটাতারের ব্যারিকেডও। দুপুর সোয়া ১টার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেন নেতারা। এ সময় ইসির বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেন তারা।

ইসির উদ্দেশে সমাপনী বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রক্তের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করতে পারেন না। আগে স্থানীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিভিন্ন জায়গা দালাল চক্র দখল করছে। উপদেষ্টা প্যানেল থেকে বিএনপিপন্থিদের বের করে দেন। বিএনপির লাশের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের টাকায় বিএনপি বড় বড় কথা বলে। আওয়ামী লীগের টাকায় বিএনপি নগর ভবন বন্ধ করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনি ভারত থেকে এসে দেশটির দালাল হয়ে গেছেন। দেশ ধ্বংস করছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হবে। সালাহউদ্দিন ভারতের প্রেসক্রিপশনে কাজ করছেন।’ আইন উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ড. আসিফ নজরুল জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে টালবাহানা করছেন। জনগণের রক্তের সঙ্গে আপনি বেইমানি করছেন। জুলাই ঘোষণাপত্র না দিলে আপনি দেশে থাকতে পারবেন না।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২০২২-এর যে আইন রয়েছে, সেই আইনের মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা গত তিনটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করেছিল, ইসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত ছিল। এনসিপির প্রথম দাবি হলো, ইসিকে পুনর্গঠন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েক দিন আগেও মাঠে নেমেছিলাম। আমাদের একটি দাবি আদায় হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ইলেকশন কমিশন, সংবিধান এখনও নিষিদ্ধ হয়নি। আমরা সংবিধান পোড়ানোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। বাংলাদেশের কোনো মুজিবীয় সংবিধান থাকবে না।

এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক উইং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবু আবদুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন, কলাবাগান প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ, পল্লবীর রেহানা আক্তার রুমা, রমনার ডা. ইশরাত জাহান, মিরপুরের সাইফুল ইসলাম, গুলশানের নূরুল ইসলাম জুয়েল, উত্তরা পূর্ব থানার মাহিন সরকার, গেণ্ডারিয়ার নাজমুল ইসলাম, মোহাম্মদপুরের আবু সুফিয়ান, কামরাঙ্গীচরের মেহেদী হাসান ও খিলক্ষেত থানার তৌফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কোনটি আগে, কোনটি পরে– সেটি নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে কোন নির্বাচন আগে আর কোন নির্বাচন পরে হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন আয়োজন করা।’
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির পঞ্চম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে ইসির সভা চলাকালে নির্বাচন ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করছিল এনসিপি। ইসি পুনর্গঠন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।’

সভার বিষয়ে তিনি জানান, আগামী নির্বাচন কালো টাকার প্রভাবমুক্ত করতে প্রার্থীর প্রচারণা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে হবে– এমন বিধান অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার বিধিমালা এবং ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়েছে; চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ নিয়ে কাজ করে পরবর্তী সময়ে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করবে।

মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জন্য ইসির তত্ত্বাবধানে প্রচার, আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে দল, প্রার্থীর প্রত্যয়নপত্রসহ কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী ডিসি-এসপির কর্তৃত্ব বাদ দিয়ে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রাখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংশোধনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় যে কমিটি ছিল, তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটি কমিশনের অধীনে আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইভিএম-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমরা বাতিল করেছি। যেহেতু ইভিএম এখন আর নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গেজেট করে ইসি। এর পর আর আপিল না করায় তা নিয়ে সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী সব ধরনের আইনবিধি পর্যালোচনা করা হয়েছে, তাতে ইসির পক্ষভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অতীতেও ইসির এ ধরনের পক্ষভুক্ত হওয়ার নজির নেই।

পড়ুন: ধানমন্ডির সেই ওসিকে পুরস্কৃত করল ডিএমপি

দেখুন: বিএনপি নেতাদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পর্ক, কে কার আত্মীয় |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন