চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচন ঘিরে সরগরম ভোটের মাঠ। নানা কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন বিএনপি’র হেভিওয়েট ও কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের টিকিট পাওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন স্থানীয় নেতারাও। পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। তবে অন্য দলগুলোর তেমন কোনো তৎপরতা নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন বাস্তবতায় এ আসনের রাজনীতি মূলত বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। দুই দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বড় শোডাউন করেছে দু’টি দল। জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার লড়াইয়ের অপেক্ষা।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, ঐতিহাসিকভাবে আসনটি বিএনপি’র। বারবারই বিএনপি’র প্রার্থী জিতে সংসদে গেছেন। এ কারণে শিবগঞ্জকে ‘বিএনপি’র দুর্গ’ বলা হয়ে থাকে। এই আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থানও শক্ত। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। দলটি অনেক আগেই রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. কেরামত আলীকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি সরব গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছেন। ফলে ভোটের মাঠের শেষ হিসাব এখনই মেলানো কঠিন।
এ আসন থেকে বিএনপি’র চারজন প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, বিএনপি’র রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিকর রহমান ও বিএনপি নেতা বেলাল-ই-বাকী ইদ্রিসী।
বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, এ আসনটিতে অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন একক প্রার্থী। তবে এবার মনোনয়নের জন্য গণসংযোগ করছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত। দলের দুই প্রভাবশালী নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় তৃণমূল কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। ৫ই আগস্টের কর্মসূচিও পালিত হয়েছে পৃথকভাবে। এবার শাহীন শওকতের অনুসারীরাও ছাড় দিতে নারাজ। দুঃসময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় তৃণমূলের একটি অংশ তার পক্ষে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবদল নেতা শহিদুল হক হায়দারী বলেন, শাহজাহান মিয়া শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেই নয়, শিবগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় নাম। শিবগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার তিনি। আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শাহজাহান মিয়াকে সামনে রেখে নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। এদিকে, শাহীন শওকতের অনুসারীরা বলছেন, দলের দুঃসময়ে পুরো রাজশাহী বিভাগে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সংগঠিত করতে কাজ করেছেন সৈয়দ শাহীন শওকত। ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন, দলের প্রতি অবদান ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বিবেচনায় শাহীন শওকতই মনোনয়ন পাওয়ার দাবি রাখে।
প্রার্থিতার বিষয়ে শাহজাহান মিয়া বলেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। শিবগঞ্জ বিএনপি’র দুর্গ। মনোনয়ন পেলে এ আসনে অতীতের মতো আমি আবারো জয়ী হবো বলে আশাবাদী। সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, দীর্ঘদিন ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছি। যাতে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। সেই সুযোগ এখন হাতের নাগালে। এলাকার মানুষের যে সাড়া তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয় পাবে। তিনি বলেন, মনোনয়ন কেন্দ্রীয় সীদ্ধান্ত আমরা আপাতত ধানের শীষের জন্য কাজ করছি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ আসনের প্রার্থী ড. কেরামত আলী দু’বার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ায় জয় নিয়ে আশাবাদী জামায়াত নেতারাও।
দেখুন: গাজা অভিযান এখনই থামবে না: নেতানিয়াহু
ইম/


