জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে সৃষ্ট সংকটের জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেও দলটিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে কোনো ঝগড়ায় যেতে চায় না জামায়াত; বরং দেশের স্বার্থে আলোচনায় বসতে চায়।’
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, রাজনীতির অনেক খেলা আছে। জামায়াত খেলতে চায় না। সোমবার দলীয় বৈঠক রয়েছে। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।
বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ আহ্বান এখন সংবাদমাধ্যমে দিচ্ছি। দেখি, বিএনপি কাল সংবাদমাধ্যমে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হোক, তা অবশ্যই চাই। কিন্তু নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট চাই। গণভোটে সব দল একমত। তবে একটি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট চায়, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব।
সাত মাসের সংলাপের পর গত ১৭ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে জুলাই সনদে সই করে রাজনৈতিক দলগুলো। এতে সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতিসহ কয়েকটি সংস্কারে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া বিএনপি নির্বাচনের দিনে গণভোট চায়। দলটি নোট অব ডিসেন্টসহ গণভোট চায়।
জামায়াত নোট অব ডিসেন্টের বিরুদ্ধে। দলটির ভাষ্য, গণভোটে জনগণ সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পুরো জুলাই সনদ অনুমোদন করতে হবে পরবর্তী সংসদকে। ডা. তাহের বলেছেন, দুনিয়ার কোথাও নোট অব ডিসেন্টসহ গণভোটের নজির নেই। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সুষ্ঠু রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণ সব সংকটের সমাধান ও ঐক্য চায়।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির নেতারা জামায়াতকে নিষিদ্ধের কথা বলছেন। তাদের কাছে জানাতে চাই, ১৯৯১ সালে যদি জামায়াত নিষিদ্ধ থাকত, তাহলে কি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারত? সেদিন যদি জামায়াত সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় না বসাত, তাহলে বিএনপি কি বর্তমান পর্যায় আসতে পারত? জবাব হলো– অবশ্যই না। বিএনপি পতিত স্বৈরাচারীদের ভাষায় বক্তব্য দিয়ে অকৃতজ্ঞতার প্রমাণ দিচ্ছে; ফ্যাসিবাদীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বর্তমান সংকট বিএনপির সৃষ্টি।
স্বাক্ষরের পর সনদ বদলে প্রতারণার অভিযোগ নাকচ করে ডা. তাহের বলেন, জামায়াত ধোঁকা, প্রতারণা ও মুনাফেকির রাজনীতি করে না; বরং বিএনপিই করে। তারা প্রথম থেকেই সংস্কারে অনীহা প্রকাশ করেছে। বিএনপির মহাসচিব জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এখন মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গিয়ে নিজেরাই বিপদে পড়েছেন। অথচ অভিযোগ করছেন, জামায়াত তাদের বিপদে ফেলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘সনদের বিরোধিতা ফ্যাসিবাদী চিন্তা’
এর আগে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আয়োজনে ‘২৮ অক্টোবর থেকে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের কালো থাবা ও আগামীর বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে ডা. তাহের বলেন, জুলাই সনদের বিরোধিতার মানে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা। এক ব্যক্তির হাতে অসীম ক্ষমতা থাকলে ফ্যাসিজমের জন্ম হয়। এ খায়েশ মানেই একনায়কতন্ত্র কায়েম করে দেশকে পৈতৃক সম্পত্তিতে রূপান্তর।
ব্যয় কমানোর যুক্তিতে নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে আয়োজনের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের শহীদ-আহতদের জন্য ব্যথিত না হয়ে মেট্রোরেল ভাঙচুরের জন্য কান্নার নাটক করেছেন। একইভাবে বিএনপির কাছে হাজারো শহীদ এবং আহতদের রক্তের চেয়ে গণভোট আয়োজনে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়কে দামি মনে হচ্ছে। শহীদদের রক্তের চেয়ে টাকা দামি হতে পারে না।
শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নভেম্বরের গণভোট আয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ড. ইউনূস জিরো।
দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, কর্নেল (অব.) জাকারিয়া, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর প্রমুখ।
পড়ুন: জামায়াতসহ ৮ দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আজ
দেখুন: তেলের বিনিময়ে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইরান! |
ইম/


