চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঝাঁঝাডাঙা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কৃষক ইব্রাহিম বাবুর (২৮) লাশ সাত দিন পর ফেরত দিয়েছে ভারত। সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং সীমান্তে গিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান।
‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির নবম দিনের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গার শহীদ হাসান চত্বরে পথসভা শেষে বিকেল ৩টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নিহত কৃষক ইব্রাহিমের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে তারা পরিবারের সদস্যদের শান্তনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচার দাবি করেন।
পরবর্তীতে নেতারা সীমান্ত ঘেঁষা মাথাভাঙা নদীর তীরে গিয়ে জনসম্মুখে প্রতিবাদ জানান। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএসএফ এখন আর কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়। এটি এক মানবতাবিরোধী খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ যতদিন সীমান্তে গুলি ছুড়বে, ততদিন প্রতিবাদের আগুন জ্বলতেই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আর কোনো ভাইকে, কৃষককে বা গরিব মানুষকে এইভাবে মরতে দিতে পারি না। আন্তর্জাতিকভাবে বিচার চাই এই হত্যাকাণ্ডের।”
এই সময় দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন— ‘বিএসএফ খুনি বাহিনী’, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’, ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ চাই’। এতে ঝাঁঝাডাঙার পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে।
এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রধান সমন্বয়কারী খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব এবং ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলামসহ এনসিপির শতাধিক নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে ঝাঁঝাডাঙা সীমান্তের ৭৯ নম্বর পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন কৃষক ইব্রাহিম বাবু। তার মরদেহ ভারতীয় ভূখণ্ডে পড়ে থাকে একটানা সাত দিন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে ভারতের গেদে সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার ও ভারতের ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে কোম্পানির কমান্ড্যান্ট। পরে ভারতের কৃষ্ণনগর থানা পুলিশ মরদেহটি দর্শনা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদ তিতুমির জানান, মরদেহ আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আসিফ।
নিহত ইব্রাহিম বাবু ছিলেন ঝাঁঝাডাঙা গ্রামের মো. নুর ইসলামের ছেলে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

