চাঁদপুরের হাইমচরের চরভৈরবী খুইশার মোড়ে সুপারি বাগান সহ বাড়িঘরে মাছ বিক্রি হচ্ছে হরহামেশাই। জাটকা রক্ষায় তৎপর প্রশাসনের উদ্যোগে জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়েছে অবৈধ মাছ বিক্রির গোপন আখড়া। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে মুল কারবারি অসাধু আড়ৎদার।
আজ রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে চরভৈরবী খুইশার মোড়ে সুপারি বাগান সহ বাড়িঘরে প্রশাসন অভিযান চালালে দেখা যায়, পরিত্যক্ত বাড়িঘরে অবৈধভাবে ধরা মাছ সহ বরফ লুকিয়ে রেখেছে স্থানীয়রা।
জানা যায়, প্রত্যেক বছর নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় গোপনে মাছ বাজার বসে এই এলাকায়। চাঁদপুর জেলার শেষ দক্ষিণ অংশ ও লক্ষীপুর জেলায় শেষ উত্তর অংশ অর্থাৎ দুই জেলার সীমানা সংলগ্ন হওয়ায় এই এলাকা মাছ বেচা কেনার বেচাকেনার স্বর্গরাজ্য মনে করে স্থানীয় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন অভিযান চালালে খুব সহজে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পালিয়ে যায় অপরাধীরা। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী, মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেদেরকে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করায় এই অবৈধ মাছ বিক্রি সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে আসলে ও স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় চালু অবৈধ মাছ বেচাকেনা।
স্থানীয় মিজান, জহির, কাজল সহ আরো অনেকে বলেন, আমাদের দেখেও না দেখার ভান করে থাকতে হয়। গ্রামের সব মানুষ এর সাথে যুক্ত নয় তবে ভয়ে সবাই চুপ করে থাকে। বড় বড় নেতা ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই চলে এই বাণিজ্য । নিজস্ব পাইকার ছাড়া কেউ এলাকায় প্রবেশ করলেই, বিভিন্ন মোড়ের দোকান থেকে যোগাযোগ করে সাময়িক বন্ধ রাখা হয় মাছ বেচাকেনা। এতে দূরের মানুষ বোঝার উপায় থাকে না এখানে কি ঘটছে। পাইকাররা সিগন্যাল পেলেই ভ্যান গাড়ি নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে মুহূর্তেই মাছ নিয়ে উধাও হয়ে যায়। কোন সচেতন ব্যক্তি পথে-ঘাটে মাছের গাড়ি আটকালেও সিন্ডিকেটের লোকজন এসে তাৎক্ষণিক মাছের গাড়ি ছাড়তে যা যা করার তাই করেন। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে একই স্থানে গোপন অবৈধ মাছ বাণিজ্য। নদীতে অভিযান হয় ঠিকই কিন্তু সব সময় দাদন ব্যবসায়ী আড়ৎদার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
হাইমচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, চরভৈরবী মাছঘাট অনেক প্রসিদ্ধ ও বহু জেলেদের সমন্বয়ে এই ঘাটে মাছ বিক্রি করা হয়। তবে নদীতে যখনই অভিযান দেওয়া হয় অসাধু জেলেরা গোপনে মাছ ধরে খুইশার মোড় নির্জন স্থানে আড়ৎদারের দারস্ত হয়ে এ মাছ বিক্রি করে। নদীতে তুলনামূলক জেলে কম থাকায় অল্প সময়ে তারা অধিক মাছ আহরণ করে নিয়ে আসে। এতে জাটকা ইলিশ সহ অন্যান্য সকল ধরনের মাছই ধরছে জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণে মাছধরা বন্ধ না হলে ইলিশ সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাবে।
নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই নদীতে টহল অব্যাহত রেখেছি। তারপরও কিছু অসাধু জেলেরা গোপনে নদীতে নামছে। সচেতন জনসাধারণকে অনুরোধ নদীতে জেলে দেখলেই তথ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করছি। জাটকা অভিযানে নীলকমল নৌপুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন, জাটকা ইলিশ দেশ ও জাতির সম্পদ। কতিপয় কিছু অসাধু জেলে ও আড়ৎদার দের অতি লোভে আমার জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছি। তবে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেও জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এভাবেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে যেখানেই অবৈধ জেলে ও আড়ৎদার দের পাওয়া যাবে আইন প্রয়োগে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সবাই পালিয়ে গেলেও বিভিন্ন পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে, বরফ জাটকা ইলিশ, পোয়া, আউড়, বাইলা, ছেউয়া , চিংড়ি সহ নানা প্রজাতির মাছ আটক করে এতিম দুস্থ অসহায় দের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মাছ পরিবহনের দায়ে রিপন (৩০) কে ০৭ দিনের বিন আশ্রম কারাদণ্ড। বরফ সংরক্ষণ করা এক নারী মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এনএ/


