শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর—বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণময় সময়। এ মাসে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেই লাখো শহীদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়ের মাস উদযাপনে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজস্বভাবে কর্মসূচি পালন করবে।
বিজয়ের দিনে বাঙালিরা পেয়েছিল স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে নতুন পরিচয়—নিজস্ব ভূখণ্ড, সবুজের বুকে লাল সূর্যখচিত জাতীয় পতাকা এবং ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পূর্ণতা। তবে এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে অসংখ্য তরতাজা জীবনের আত্মদান এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের করুণ স্মৃতি। তাই ডিসেম্বর যেমন আনন্দের মাস, তেমনি বেদনাবিধুর স্মৃতিতেও ভারী।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশের বীর সেনানীদের কাছে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ১ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—গেরিলা হামলা বেড়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে আরও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে জিঞ্জিরাতে এক দিনেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্য করা হয় ৮৭ জনকে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে; শেষ চেষ্টা চালাতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী।
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) চূড়ান্তভাবে পরাস্ত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়—এভাবেই বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ ঘটে।
পড়ুন: প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি: হাসিনা–রেহানা–টিউলিপসহ ১৭ জনের রায় আজ
আর/


