তুরস্কে বিবিসির সাংবাদিক মার্ক লোয়েনকে গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দেশটিতে চলমান বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করছিলেন। বুধবার ইস্তাম্বুলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একদিন পর তাকে তুরস্ক থেকে ফেরত পাঠানো হয়। বিবিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মার্ক লোয়েনকে ১৭ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ থেকে বের হয়ে যেতে বলে, কারণ তিনি আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারেন এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনা বিবিসির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বিবিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “মার্ক লোয়েন তুরস্কের বৃহত্তম সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। তার গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হয়।” তুরস্কের সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মার্ক লোয়েন তুরস্কে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করেছিলেন এবং সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রতি তার বিশ্বাস ছিল।
তুরস্কে চলমান বিক্ষোভটি ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পর শুরু হয়। ইমামোগলুকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, বিবিসির যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর, তুরস্কের অনেক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে তুরস্কের ১১ জন সাংবাদিকও আটক হয়েছেন। গত কয়েকদিনে দেশব্যাপী ১ হাজার ৮৫০ জনকে আটক করা হয়েছে, এবং এই বিক্ষোভটি এখন তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, মার্ক লোয়েন তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যে দেশে আমি আগে পাঁচ বছর বসবাস করেছি এবং ভালোবাসা পেয়েছি, সেখানে আমাকে আটক এবং নির্বাসনে পাঠানো অত্যন্ত কষ্টদায়ক।” তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কোনও গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয়। এই ঘটনায় তুরস্কের সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ওঠে।
এটি তুরস্কের গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পড়ুন: তুরস্কে বিবিসির থামছেই না সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ১১১৩
দেখুন: তুরস্কের ভয়ংকর উত্থান |
ইম/


