মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের নর্তন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দ আর উৎসবের যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল, সেই দিনই পরিণত হলো গভীর বেদনা ও চিরবিদায়ের মুহূর্তে।
নর্তন গ্রামের বাসিন্দা ও কাতার প্রবাসী মোঃ উস্তার মিয়া দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে দেশে আসেন তিনি। আজ ছিল তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা—বিয়ের দিন। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী প্রস্তুত ছিলেন আনন্দঘন আয়োজনের সাক্ষী হতে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সবকিছু বদলে যায় মুহূর্তেই। গতরাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন উস্তার মিয়া। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিয়ের সাজে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ানোর আগেই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
যে মানুষটির আজ পালকিতে চড়ে সুখের ঘরে যাওয়ার কথা ছিল, তিনি ঠিকই পালকিতে চড়লেন—তবে সেটি ছিল মসজিদের পালকি, চিরবিদায়ের পথে। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তে রূপ নেয় শোকে। হাসির শব্দ থেমে যায়, চারদিকে নেমে আসে স্তব্ধতা।
আজ সকাল ১১টায় পারিবারিক গোরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। সবার চোখে ছিল অশ্রু আর অবিশ্বাসের ছাপ।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—জীবন কতটা অনিশ্চিত। এক মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিল স্বপ্ন আর আয়োজন, পরের মুহূর্তেই সেখানে নেমে আসে চিরবিদায়।
পড়ুন:স্বাধীনতার পর প্রথম মন্ত্রীর স্বপ্ন দেখছে পাবনা ৫, শিমুল বিশ্বাসকে ঘিরে উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা
দেখুন:পিরোজপুরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ হাতপাখা সমর্থকের বিরুদ্ধে |
ইমি/


