বিজ্ঞাপন

বিরক্ত-বিক্ষুব্ধ বাইকাররা, দুই লিটার তেল কিনতে লাইনে আড়াই ঘণ্টা!

কল্যাণপুর খালেক স্টেশন সার্ভিস পাম্পে গত রাতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে পেট্রোল পাননি আল আমিন। আজ আবার সকালে এসে লাইনে দাঁড়ান। দুই লিটার অকটেনে যেন দম বন্ধ দশা থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। কিন্তু মাত্র দুই লিটার তেল কিনতে ফুয়েল পুড়িয়ে আড়াই ঘণ্টার ভোগান্তিতে বিরক্ত-বিক্ষুব্ধ এ ব্যবসায়ী। 

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদপুর এলাকার এ ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধিকাংশ ছোট পাম্প বন্ধ। বড় পাম্পে প্রচণ্ড ভিড়। অনেক পাম্পের আশপাশে লাইন ছাড়িয়ে গেছে এক কিলোমিটারের বেশি। এই ভোগান্তিতে বেশি পড়তে হচ্ছে বাইকারদের। এ থেকে নিষ্কৃতি চাই। সরকার নির্দেশনা জারি করে ফুয়েল ক্রয়ে লিমিট করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুধু এই ব্যবসায়ী নন, পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ সাধারণ বাইকার-প্রাইভেটকার চালক বলছেন, সরকারের উচিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ, ডিস্ট্রিবিউশন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। মজুতদারি বন্ধ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়ে তেল কেনার সীমা বেঁধে দেওয়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুয়েল পুড়িয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেটের তালুকদার পাম্প, সোনার বাংলা, কল্যাণপুরের খালেক পাম্পসহ তিনটি পাম্প, টেকনিক্যাল ও মাজার রোডের ২টি, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ের আরও দুটিসহ মোট ১১টি পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্প তেল কিনতে আগ্রহী যানবাহন চালকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।

তালুকদার পাম্পে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার বলেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। মজুতদারি কারবারি সিন্ডিকেটের এই অপচেষ্টায় সরকারও যেন অংশ নিলো ফুয়েল ক্রয় সীমাবদ্ধ করে। এতে করে ভোক্তা পর্যায়ে আতঙ্ক বদ্ধমূল হয়েছে যে আসলেই জ্বালানি তেলের সংকট আছে। যার প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন দীর্ঘ লাইন। 

মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, তেলের লাইনে জায়গা হচ্ছে না, তাই গ্যাস নিচ্ছি। সমস্যা হচ্ছে যেসব যানবাহন তেলে চলতো তারা গ্যাসের লাইনে আসায় এখানেও বেড়েছে চাপ।

শ্যামলী সাহিল ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের পাশাপাশি আছে পেট্রোল পাম্পও। তবে সেখানে তেল নিতে আসা যানবাহনগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেখানকার কর্মচারী মেহেদি বলছেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তেল বিক্রি করছি। এরপর আর বিক্রি হচ্ছে না। শেষ, কিন্তু চাপ পড়ছেই। তেল নেই তবুও লাইন। তেলের লাইনের চাপে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনও বিড়ম্বনায়।

দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুই লিটার তেল নিয়ে অখুশি বাইকাররা। খালেক পাম্পে কথা হয় ইয়াছিন নামে এক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, সরকার বলছে তেলের সংকট নেই। তাহলে তেল ক্রয়ে লিমিট কেন? সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তেল সংকটের আতঙ্কে অনেকে মজুতের ধান্দায়, কেউ বাড়তি তেল কিনেছেন। তেল সংকট আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পে ডিপোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইক ও প্রাইভেটকারের লম্বা লাইন লেগে থাকছে। 

চাপে আছে বড় পাম্প কর্তৃপক্ষ

খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, আমরা চাপে আছি। তেলের গাড়ি লোড করা। কিন্তু যে পরিমাণ চাপ, তা সামাল দিতে অন্তত ২০টা স্টেশন দরকার। সেটা তো নেই। যে কারণে ৫/৬টা দীর্ঘ লাইন হচ্ছে। কিন্তু সামনে এসে দুটি স্টেশনে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। 

যানজট নিরসন করতে বিপাকে পুলিশও

ফিলিং স্টেশন, পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপের কারণে যানজট, জটলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। আমাদের সড়কে যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দু-দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও নজর দিতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমরা ফিলিং স্টেশন মালিক পক্ষ, শ্রমিক, পরিবহন ও পুলিশ মিলে যৌথ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাম্প কেন্দ্রিক লাইন করা হচ্ছে। বাইকারদের জন্য আলাদা লাইন করা হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করছি আগামীকাল মূল সড়ক সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন কেন্দ্রিক যানজট বাড়তে পারে।

পড়ুন:খুলনায় ৫টি পিস্তল ও গু‌লিসহ এক নারী আটক

দেখুন:গাইবান্ধায় জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় |

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন