বিজ্ঞাপন

বিরোধের আগুনে পুড়ল বসতঘর, জামালপুরে রহস্যঘেরা অগ্নিকাণ্ডে মুখোমুখি দুই পক্ষ

জামালপুরের কুলিয়া ইউনিয়নের চিনিতুলা পূর্বপাড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোতালেব মিয়া নামে এক ব্যক্তির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সেহেরির পরপর ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত মেতালেব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী মকবুল হোসেনের ছেলে নাজির হোসেন ও তার স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তিনি জানান, গত ১৫ তারিখে অভিযুক্তরা তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “নাজির হোসেনের দেওয়া মিথ্যা মামলার ভয়ে আমরা রাতে বাড়িতে থাকতে পারতাম না। এই সুযোগে শেষ রাতে কে বা কারা আমাদের ঘরে আগুন দেয়। এতে আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আব্দুল মান্না বলেন, “আমাদের ঘরে যা কিছু ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের সঙ্গে অন্য কারও কোনো শত্রুতা নেই। কয়েকদিন আগেও তারা আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমরা ধারণা করছি, এই ঘটনার সঙ্গে তারাই জড়িত।”

মোছা. জোসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মানুষ শত্রুতা করতে পারে, কিন্তু এমন অমানবিক কাজ কেউ করতে পারে না। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাজির হোসেন বলেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, “মামলা থেকে রেহাই পেতেই হয়তো তারা নতুন কৌশল হিসেবে নিজেরাই ঘরে আগুন দিয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জামালপুরে মাদক বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন