সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ‘বি’ ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলা থেকে সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কিডনি চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত করা এবং কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ দীর্ঘদিন নীরবে শরীরে বৃদ্ধি পায়। সময়ম তো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। অথচ একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। তাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে সহজ পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করলে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এ রোগ থেকে বাঁচতে ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অন্যান্য বক্তারা জানান, বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এ হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মৃত্যুবরণ করছে
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে।
পড়ুন:সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
দেখুন:শিক্ষার্থী নি/হ/তে/র পর পলাতক শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা |
ইমি/


