বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, ঈদের আগে দাম আরও কমবে

বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আরও কঠোর নীতিগত অবস্থানের ঝুঁকি বিবেচনা করছেন। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নেমো.মানির বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকবে বলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। ইরান সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, এই পরিস্থিতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণকে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরান তেল আবিবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের হাতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

তেলের উচ্চমূল্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ ধরে রাখার খরচ বাড়ে। ফলে এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।

বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, দিনের শেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ফেড টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। বিনিয়োগকারীরা ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছেন, যা থেকে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের নীতিগত দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। ফিউচার মার্কেটে ইঙ্গিত মিলেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে একবার এবং ২০২৭ সালের শেষ দিকে আরও একবার সুদের হার কমতে পারে।

জেমি দত্ত আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়, স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণের চাহিদা-এই দীর্ঘমেয়াদি কারণগুলো এখনও রয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।

এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমায় ঈদের আগে দেশের বাজারেও আরেক দফা কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।

এর আগে সবশেষ ৩ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩ বারই স্বর্ণের দাম কমিয়েছ বাজুস। তিন দফায় মোট কমানো হয়েছে মোট ৮ হাজার ১৬৫ টাকা।

সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে কমেছে অন্যান্য ধাতুর দামও। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৯ ডলারে, স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিল ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৩ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৬০ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, দেশে ভরি কত?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন