রংপুরে বহুল আলোচিত মুদি দোকানদার সমেছ উদ্দিন হত্যা মামলার ৫৪ নাম্বার আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকাল ৩:৩০ মিনিটে তাকে গ্রেফতার করে হাজিরহাট থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং সেখানে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
এ ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজে রাতে দেখা করতে ছুটে আসেন কারাগার প্রাঙ্গনে। তবে কারাগারের বিধি নিষেধ অনুযায়ী দেখা করতে পারেনি তারা ।
এ সময় নাগরিক টেলিভিশনকে তারা জানায়,গত ৫ই আগস্টের পর ৩য় বারের মতো জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন মামলায় তাকে( অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হক )এজাহারভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা।
বরং আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর তিনিই প্রথম শিক্ষক হিসেবে এই পুলিশী হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছিলেন । এছাড়াও পুলিশের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে না দেওয়ার দাবি করেছিলেন বলে জানান তারা।
আরো বলেন, অধ্যাপক মোঃ মাহমুদুল হক, ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর সকল অনিয়মের বিরূদ্ধে সরব ছিলেন। তাই বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ের বিরূদ্ধে দীপ্ত কন্ঠে প্রতিবাদ করা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশী গণহত্যার বিচার চাওয়াই তার কাল হয়ে দাড়িয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
জানা গিয়েছে রংপুর নগরীর রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া মুদি দোকানদার সমেছ উদ্দিনকে ১০ মাস পর জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা বানিয়ে তাকে জাতীয় বীর দেখিয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এ মামলায় এজাহারে ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বাকি ৫২ জনই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। এদের মধ্যে ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীনকেও আসামি করা হয়েছে।
এনএ/


