ভারতীয় সংগীত ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে ৯২ বছর বয়স হয়েছিল এ গায়িকার।
আশা ভোসলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ উপ-মহাদেশের সংগীতাঙ্গন। বিশ্বজুড়ে বাংলা ও হিন্দি ভাষাভাষী-সহ অসংখ্য সংগীতপ্রেমীরা শোক প্রকাশ করছেন তার মৃত্যুতে। এমনকি ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীরাও। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা।
এদিন বিকেল চারটার দিকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রুনা লায়লা এক আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে আশা ভোসলের মৃত্যু নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত। বিশ্ব এমনই এক রত্নকে হারাল, যা অপূরণীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।’
এরপরই আশা ভোসলের সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করেছেন রুনা লায়লা। তিনি লিখেছেন, ‘তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি আমি। ছোটবেলা আশা দিদির গান শুনতাম আর তার অতুলনীয় কণ্ঠের অতি সূক্ষ্ম ও নিপুণ স্বর নিজ কণ্ঠে তোলার চেষ্টা করতাম। আবার “সুর ক্ষেত্র’ রিয়েলিটি শোয়ে বিচারক হিসেবে কাজের সময় আমাদের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠতা হয়।’
‘আমরা এত হাসাহাসি, ঠাট্টা আর গল্পগুজব করতাম যে, কয়েকটি পর্বের পর প্রযোজক আমাদের দূরে বসিয়ে দেন, যাতে আমরা সহজে কথা বলতে না পারি। কিন্তু আশা দিদি জোর দিয়ে বললেন, আমি যেন তার পাশের চেয়ারেই বসি। আর তাকে তো না বলা যায় না।’
রুনা লায়লা লিখেছেন, ‘আমার জন্য বিরিয়ানি আর চিংড়ি রান্না করে শুটিংয়ে নিয়ে আসতেন তিনি। এভাবে আমরা খুব ভালো বন্ধু হলাম এবং একে অপরকে ভালোবাসতাম ও সম্মান করতাম। তবে আমি তাকে সবসময় বলতাম, তিনি যেন আমাকে “রুনজি” বা “আপনি” না বলে নামে ডাকেন। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, “আমি তোমাকে একজন মানুষ এবং একজন মহান শিল্পী হিসেবে সম্মান করি। এ জন্য তোমাকে যেভাবে ডাকি সেভাবেই ডাকব।”’
সবশেষ এ গায়িকা লিখেছেন, ‘দিদি, আমাদের ফোনে অনেক আলাপ, অফুরন্ত আড্ডা আর তোমার গলায় “রুনজি, আপনি কেমন আছেন” কথাগুলো খুব মিস করব। চিরশান্তিতে থাকো তুমি।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

