নির্বাচনী ম্যাকানিজমে পতিত শেখ হাসিনা সরকার কেও পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)! বিসিবি নির্বাচনের কাছে হার মানছে জাতীয় নির্বাচন।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে কাউন্সিলরদের নাম গ্রহণ করছে, যা সম্পূর্ণ নির্বাচনের তফসিল ভঙ্গ করেছে। সেই অনিয়মের মাধ্যমে বিসিবির খসড়া ভোটার তালিকায় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে বিসিবির বেঁধে দেওয়া কাউন্সিলর পাঠানোর নির্ধারিত সময় সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর তার কাউন্সিলর ফরম যশোরে এসে পৌঁছায়। তবে খসড়া ভোটার তালিকায় নেই বিসিবির বর্তমান পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠুর নাম।
এদিক বিসিবির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর সময় ছিল সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে যশোর প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলামের কাছে এস এম আব্দুল আল মামুনের চিঠি পৌঁছায়।পরে সেটি পূরণ করে ৬টা ৫৫ মিনিটে তার কাছে প্রেরণ করা হয়। যশোর প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহবায়ক মো. আজাহারুল ইসলাম নিজেই বিষয় টা নিশ্চিত করেন। বিসিবিতে জমা দেওয়ার সময় সীমা অতিক্রম হওয়ার পর এস এম আব্দুল্ল আল মামুনের কাউন্সিলর ফরম কেন নেওয়া হলো? এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক বলেন সময় সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর সে বিসিবিতে কি ভাবে ফরম জমা দেবে সেটা তার বিষয়। কোন সময় তার ফরম পেয়ে সেটা পূরণ করে তার কাছে হস্তান্তর করলাম এর প্রমাণপত্র আমার কাছে আছে। কেউ চাইলে দিতে পারবো এবং এটা নিয়ে আইনী পথেও লড়তে পারবে।
এদিকে সীমাহীন অনিয়মের মাধ্যমে বিসিবির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের খবরে সারাদেশের মতো যশোরের ক্রীড়া সংগঠকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সেখানে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন অন্তর্ভুক্ত খবরে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জেলার ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড়বৃন্দ।
এ বিষয় জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ নাগরিক টিভি কে বলেন, সে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বৈধ সদস্য না। তাকে সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচ হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সে রানিং ক্রিকেটার। সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে যশোর জেলা দলের হয়ে খেলেছে। আমি সেখানে নির্বাচক ছিলাম। সুতরাং জেলা ক্রীড়া সংস্থায় সে মিথ্যাচার করে সদস্য হয়েছে। তার এই মিথ্যাচারে পক্ষে অবস্থান নেয় জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা খালিদ জাহাঙ্গীর। জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মিথ্যাচারের মাধ্যমে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য করতে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে যশোরের পবিত্র ক্রীড়াঙ্গন কে কলুষিত করেছে। এমন নৈতিক স্খলন ব্যক্তি কে কোন ভাবেই যশোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। এমন অবৈধ সদস্য কি ভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির কাউন্সিলর হয়? আমরা গত সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সর্বস্তরের ক্রীড়া সংগঠক এবং খেলোয়াড়বৃন্দ অবস্থান কর্মসূচি থেকে এস এস আব্দুল্ল আল মামুনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করি। সেই অবাঞ্ছিত ব্যাক্তিকে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির কাউন্সিলর করা এর চেয়ে দুর্ভাগ্য এবং লজ্জা জনক আর কিছু হতে পারে না।
উল্লেখ্য মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের জন্য ১৭২ জন কাউন্সিলরের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাটাগরি-১’র জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলরদের নাম জমা পড়েছে।
৫টি ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে তাদের জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। আর ১৫টি ক্লাবকে নিয়ে বিতর্ক থাকায় তাদেরকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিসিবির প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার ওপর সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আপত্তি গ্রহণ করা হবে। কোন কাউন্সিলর নিয়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন করতে চাওয়া প্রার্থী আপত্তি জানাতে পারবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর আপত্তির ওপর শুনানি হবে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পড়ুন : তামিম নয়, বুলবুলকে বিসিবির সভাপতি পদে দেখতে চান আশরাফুল


