28.5 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৭:৪৯ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর সন্তান প্রসব: অবশেষে কারাগারে মূল হোতা কিবরিয়া

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. কিবরিয়াকে (২৪) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। মো. কিবরিয়া নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার এলাকার আ. ছাত্তারের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল বারহাট্টা থানাধীন চন্দ্রপুর লম্বপাড়া গ্রামের প্রতিবেশী মোছা. পারুলা বেগমের (৪৫) বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

পারুলা বেগম প্রয়োজনীয় কাজের কথা বলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে নিজ ঘরে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা কিবরিয়ার সাথে কিশোরীকে রেখে পারুলা বেগম ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। এরপর কিবরিয়া ওই কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নেত্রকোনার নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয় এবং জানা যায় ভুক্তভোগী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ধারায় বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরে এ মামলার এজাহারনামী দুজন আসামির মধ্যে দ্বিতীয় অভিযুক্ত পারুলা বেগমকে নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। কিন্তু, প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষক কিবরিয়া আত্মগোপনে থাকেন।

এদিকে, প্রধান অভিযুক্ত কিবরিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ভুক্তভোগীর বাবা আক্ষেপ করে জানান, মেয়ের বিচারের খরচ জোগাতে তিনি উপার্জনের একমাত্র সম্বল দেড় লাখ টাকা দামের অটোরিকশাটি বিক্রি করে বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। মানববন্ধনে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাত দিনের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার না করলে রাস্তাঘাট অবরোধ ও আসামির বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

তবে, চরম অসহায়ত্বের সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি সংস্থা ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’। সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার কোহিনুর বেগম জানান, প্রথম অবস্থায় ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তারা এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই মেয়েটির আল্ট্রাসনোগ্রাম থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা এবং আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।

অবশেষে প্রশাসনের তৎপরতা, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ এবং আইনি চাপের মুখে প্রধান অভিযুক্ত কিবরিয়া আদালতে ধরা পড়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

দেখুন- দেওয়ানগঞ্জে পদে পুনর্বহালের দাবিতে তৃতীয় লিঙ্গের মুন্নীর সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন