আইসিসি জুজুর ভয় দেখানোর সংস্কৃতিটা এখনও রয়ে গেছে দেশের ক্রিকেটে। ২০২৫ সালে সভাপতির পদ হারিয়ে ফারুক আহমেদ আইসিসিতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা তাতে বিচলিত না হওয়ায় পিছু হটেছিলেন ফারুক।
বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম আরও এক ধাপ এগিয়ে আইসিসিতে নালিশ করার হুমকি দিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আইসিসির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি বিসিবি সভাপতি।
বিসিবির একজন পরিচালক সমকালকে জানান, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বুলবুল।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এনএসসি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর বুলবুল ভাই কার পরামর্শে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন বলতে পারব না। তিনি হুমকি দেওয়ার পর জয় শাহর পিএসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম পূর্ব সম্পর্ক থাকায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন বুলবুলকে কোনো প্রকার সমর্থন করা হবে না। বুলবুল ভাই একা নন, অন্য পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেয়নি আইসিসির নীতিনির্ধারণী মহল। তবে সরকার থেকে যোগাযোগ করলে আইসিসি কর্মকর্তারা সাড়া দিতে পারেন।’
বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বুলবুলের বিপক্ষে চলে গেছে আইসিসি। তাঁর মতে, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশকে উস্কে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশ আর্থিক জরিমানা থেকে বাঁচলেও কূটনীতিতে অনেক পিছিয়ে গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বুলবুল ভাই গুরুত্ব হারিয়েছেন। পিসিবি ছাড়া তাঁর কথা এখন আর কেউ শোনে না!”
বিসিবির সাবেক একজন পরিচালকের মতে, বিশ্বকাপ না খেলা, ক্রিকেটারদেরকে হেয় করা, নিজের কোরামের পরিচালকদের দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার অপরাধে দেশের ক্রিকেটে আজীবন নিষিদ্ধ করা উচিত আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও এম নাজমুল ইসলামকে।’
একজন পরিচালক জানান, এম নাজমুল ইসলাম, আসিফ আকবর, খালেদ মাসুদ পাইলট, আব্দুর রাজ্জাক ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিসিবি সভাপতির ঘনিষ্ঠ। বুলবুল সব কাজে তাদের সমর্থন পান। তিনি জানান, এনএসসিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া এবং আইসিসির ভয় দেখাতে নিজের কোরামের পরিচালকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ কারণে পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লাইক দিয়েছেন পাইলট-রাজ্জাকরা।
বিসিবির নির্বাচন থেকে শুরু করে নানা ইস্যুতে ক্রিকেটারদের কাছে অপছন্দের হয়ে গেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করায় সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। এই ইস্যুতে তদন্ত করা হলে ফেঁসে যেতে পারেন বোর্ড সভাপতি ও এম নাজমুল ইসলাম।
পড়ুন:৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও এক জাহাজ
দেখুন:এবার সমুদ্র তলদেশ থেকে ভেসে উঠছে ইরানের ভয়ংকর মি/সা/ই/ল সিটি?
ইমি/


