ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের যানযট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এই যানযট হয় ভয়াবহ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে সরাইলের শাহবাজপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানযট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই যানযট প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। দেখা দিয়েছে চরম দূর্ভোগ।
সড়ক ও জনপথ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এই প্রকল্পের অর্থায়ন ভারতীয় সরকার ৭৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকার ২৫ শতাংশ করছে। প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকেই গত ৭/৮ বছর ধরে ধীরগতিতে কাজটি চলে আসছিল। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতীয় ঠিকাদারি কোম্পানির লোকজন নিজ দেশে চলে যায়। ফলে ৩/৪ মাস কাজটি বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে কিছু লোকজন ফিরে আসলেও কাযে গতি ফেরেনি। মহাসড়কের এক পাশের কাজ প্রায় শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে সড়কটি যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঝে এসব গর্তে সংস্কার করা হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় দীর্ঘ যানযট। বৃহস্পতিবারও সন্ধ্যায় বৃষ্টি হওয়ায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশে দীর্ঘ যানযট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পেড়িয়ে এই যানযট শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলমান আছে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, যানযট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। গতকালও বৃষ্টি হওয়ায় আবারও যানযট লেগেছে। স্থায়ী সমাধান না হলে সড়কে যানযট বাড়বে। এখন গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
পড়ুন: গাজীপুরে কাপাসিয়াবাসীদের প্রীতি সম্মেলন ও উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক নির্বাচনী মতবিনিময়
দেখুন: পুঁজিবাজারে দরপতন: বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
ইম/


