১৪/০১/২০২৬, ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
15 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বৃহত্তর সংঘাতের হুমকি তৈরি পাকিস্তান-আফগান লড়াইয়ে 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সেনারা যেভাবে বারবার সীমান্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে, তা এ অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতি ও শনিবারের পৃথক দুটি ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড গোলাগুলির পর উভয় পক্ষই একে অপরের সীমান্তচৌকি দখল ও ধ্বংস করার দাবি করেছে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাকটিকায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এর জবাবে গত শনিবার রাতে আফগান বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৫৮ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। অথচ এই পাকিস্তানই একসময় ছিল আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের অন্যতম মিত্র। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে আফগানিস্তানে প্রথম তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া মাত্র তিনটি দেশের একটি ছিল পাকিস্তান।  

বিজ্ঞাপন

সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও বৈরিতা এ অঞ্চলে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, শনিবার রাতের ওই লড়াইয়ের ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উভয় দেশের সেনাবাহিনী এমন এক সীমান্তে বারবার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে; যা প্রায় এক হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। পাকিস্তান বারবার তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছে। এই গোষ্ঠীর হামলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের আরেক বৈরী দেশ ভারতও টিটিপিকে সমর্থন দিচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতের জন্ম দিতে পারে; যা এ অঞ্চলের জন্য শুভ কোনো বিষয় হবে না।  

সাম্প্রতিক সংঘাত প্রভাব ফেলতে পারে উভয় দেশের আন্তঃসম্পর্কেও। কারণ পাকিস্তান এখনও আফগানিস্তানের শীর্ষ রপ্তানি অংশীদার এবং গত কয়েক দশকে নিরাপত্তাহীনতা ও বেকারত্ব থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ আফগানকে আশ্রয় দিয়েছে। পাকিস্তানি ও আফগান কর্মকর্তাদের মতে, শনিবারের রাতের সংঘর্ষের পর দুই দেশের প্রধান সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার মধ্যে পাকিস্তানে বসবাসকারী কয়েক হাজার আফগান দেশে ফিরে গেছেন। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে শান্তি স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েল যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুনেছি যে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। আমি বলেছি, আমার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ আমি যুদ্ধের ভালো সমাধান দিতে পারি। আমি লাখ লাখ জীবন বাঁচাই।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চীন এই অঞ্চলে তাদের নাগরিক ও বিনিয়োগ রক্ষা করার জন্য উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যেতে ইচ্ছুক।

খাইবার পাখতুনখোয়ার নতুন মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মনোনীত প্রার্থী সোহাইল আফ্রিদি সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে বয়কট করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে স্পিকার বাবর সালিম সওয়াতি সোহাইল আফ্রিদির নাম ঘোষণা করেন। তিনি ৯০ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা ড. ইবাদুল্লাহসহ জেএইউআই-এফ নেতা মাওলানা লুতফুর রহমান ও আকরাম দুররানি ভোট গ্রহণ শুরুর আগে সভা থেকে বেরিয়ে যান। ইবাদুল্লাহ নির্বাচনকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যখন আলি আমিন গান্ধাপুর এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন, তখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের কোনো বৈধতা নেই। এর আগে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্ধাপুর পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে সোহাইল আফ্রিদিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশেই পদত্যাগ করেছেন এবং বিরোধীদের প্রতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিলম্ব না করার আহ্বান জানান তিনি।

পড়ুন: আ.লীগ নেতাদের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠেছে বড় বড় কোম্পানি!

দেখুন: আ.লীগ নেতাদের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠেছে বড় বড় কোম্পানি!

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন