মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান যাত্রার কিছুক্ষণ পরেই আকস্মিকভাবে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, যার ফলে তার সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর বিলম্বিত হয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, বিমানে “সামান্য বৈদ্যুতিক সমস্যা” দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটিকে গ্রাউন্ডেড করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে যখন এয়ার ফোর্স ওয়ান মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে দাভোসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সাংবাদিকরা জানান, উড্ডয়নের কিছু সময় পরেই প্রেস কেবিনে হঠাৎ করে আলো নিভে যায়, যা যান্ত্রিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এরপর পাইলটরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিমানটিকে ঘুরিয়ে আবার অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনেন।
পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য একটি বিমানে করে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে এই বিলম্বের কারণে তার দাভোসে পৌঁছানোর সময়সূচি প্রায় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। (স্থানীয় সময়) সকাল ১০টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও, বাস্তবে তিনি পৌঁছাতে পারেন দুপুরের দিকে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মার্কিন বিমান বাহিনীর রাষ্ট্রপতির বহরে দুটি বোয়িং ৭৪৭-২০০বি সিরিজের বিমান রয়েছে, যেগুলো ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও এই বিমানগুলো বিভিন্ন সময়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, তবুও এয়ারফ্রেম ও ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ কারণেই মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও এয়ার ফোর্স ওয়ানের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। গত বছর নতুন দুটি বিমান সরবরাহে বারবার বিলম্ব হওয়ায় তার প্রশাসন বোয়িংয়ের বিকল্প খোঁজার কথাও ঘোষণা করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, মে মাসে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান গ্রহণ করা নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক সমালোচনা হয়। যদিও হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে, বিমানটি গ্রহণ সম্পূর্ণ বৈধ এবং ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর সেটি তার রাষ্ট্রপতি গ্রন্থাগারে দান করা হবে।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্পের ভাষণ বর্তমানে নির্ধারিত রয়েছে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। তবে এই বিলম্ব তার অন্যান্য কর্মসূচিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন বিদেশি নেতা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।
এদিকে, দাভোস সফরের আগেই ট্রাম্প বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, তিনি ইউরোপীয় নেতাদের জানাবেন যে “আমাদের গ্রিনল্যান্ড পেতেই হবে।” জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন এবং এ জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে গ্রিনল্যান্ডের নেতারা এবং ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় দেশগুলো এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, এয়ার ফোর্স ওয়ানের যান্ত্রিক ত্রুটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমস্যাই নয়, বরং ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সফরের শুরুতেই এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পড়ুন: জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবে হত্যাকাণ্ডে বন্দুকধারীর যাবজ্জীবন
দেখুন: পুলিশ-বিএনপি সং ঘর্ষে উত্তপ্ত রাজধানী
ইম/


