অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক জনগণের সঙ্গে প্রতারিত করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই জনগণকে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। এদিকে ডিএমসি ব্যাংকের ডিএমডি বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় রয়েছে মামলা, পুলিশও খুঁজছে হন্য হয়ে। ডিএমসি ব্যাংক নিয়ে সানি আহম্মেদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ পড়ুন তৃতীয় পর্ব।
ব্যাংক না হয়েও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক বা ডিএমসি ব্যাংক লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, জনগণের এসব অর্থে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ডিএমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশ-বিদেশে করেছেন অঢেল সম্পদ, কক্সবাজারে ব্যক্তিগত বিলাস-বহুল হোটেল।
কিন্তু এসব অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও বাংলাদেশ ব্যাংক শুধুমাত্র কিছু বিজ্ঞপ্তি দিয়েই অনেকটা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিংসহ নানা অভিযোগ থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডিএমসি ব্যাংক কোনভাবেই লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করতে পারে না। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নাগরিককে জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান সমবায় অধিদপ্তরের হয়ে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা অবৈধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সমবায় অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা স্বত্ত্বেও ডিএমসিবি অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে জনগনের সঙ্গে করা হচ্ছে প্রতারণা। তাই বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রচার করলেও তিনি মূলত চাকুরিচ্যুত। প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আশুলিয়ায় থানা রয়েছে মামলা, পুলিশও খুঁজছে তাকে।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাতুল ইসলাম নাগরিককে জানান, মনিরুল ইসলামের নামে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। তাকে পুলিশও হন্য হয়ে খুঁজছে। মনিরুল ইসলাম বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে জুলাই গণহত্যার মামলার আসামী বলে জানান তিনি।
নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমসি ব্যাংকের একাধিক অফিসে নাগরিক টিম কয়েকদফা মন্তব্য জানতে গেলেও তারা কেউই কোন মন্তব্য করেননি। তাদের চাহিদা অনুযায়ী, একাধিকবার লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও তারা কোন জবাব দেয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ কোথায় আছে, কী করছে সে বিষয়গুলো রয়ে গেছে অন্ধকারে।
ভিডিও দেখুন: ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে গ্রাহককে প্রতারিত করছে ডিএমসি: বাংলাদেশ ব্যাংক
আরও দেখুন: হায় হায় কোম্পানি ডিএমসিবি: সাবেক সেনাসদস্যদের ব্যবহার
আরও দেখুন: ব্যাংক না হয়েও ব্যাংকের নামে হাজার কোটি টাকা পাচার!


