বিজ্ঞাপন

ব্রহ্মপুত্রের চরে ফিরছে জীবনের চাকা, স্বপ্ন বুনছেন হাজারো চাষি

এক সময়ের প্রমত্তা আজ অনেকটাই শান্ত, কোথাও কোথাও প্রায় মৃতপ্রায়। পানিশূন্যতার কারণে নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। আর সেই চর ঘিরেই নতুন করে জীবন ও স্বপ্নের জাল বুনছেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাজারো কৃষক।

বিজ্ঞাপন

বন্যার পানিতে ভেসে আসা পলিতে এক সময়ের অনুর্বর বালুচর এখন হয়ে উঠেছে উর্বর জমি। সেখানে চাষ হচ্ছে আখ, ভুট্টা, মরিচ, পাট ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। প্রতিকূল প্রকৃতি—খরা, বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও তীব্র রোদ—সবকিছুকে উপেক্ষা করে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন দশক আগে বাহাদুরাবাদ, সর্দারপাড়া, চরবাহাদুরাবাদ, ফারাজীপাড়া, গুমেরচর, কাজলাপাড়া ও পোল্যাকান্দিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন হাজারো পরিবার। জীবিকার তাগিদে অনেকেই পাড়ি জমান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সময়ের বিবর্তনে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে জেগে ওঠে নতুন চর। প্রথমে বালুময় হলেও কয়েক বছরের বন্যায় জমে থাকা পলিতে এখন সেই চর হয়েছে অত্যন্ত উর্বর। ফলে গত কয়েক বছর ধরে সেখানে ব্যাপকভাবে ফসল চাষ শুরু হয়েছে, যা বদলে দিচ্ছে চাষিদের জীবন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও ভুট্টার ক্ষেত, কোথাও আখের সারি, আবার কোথাও মরিচ ও সবজির চাষ। চাষিদের মুখে এখন আশার হাসি। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর আবারও নিজেদের জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের চরে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। এছাড়া আখ, মরিচ, পাট ও বিভিন্ন সবজিসহ আরও কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। প্রতি বছর এসব চরাঞ্চল থেকে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

ফারাজীপাড়া গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, নদীভাঙনে জমি হারিয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এখন জেগে ওঠা চরে কয়েক বিঘা জমিতে ভুট্টা ও আখ চাষ করে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। একই অভিজ্ঞতা পোল্যাকান্দির বুদু মিয়া ও ময়নুল হোসেনের মতো আরও অনেক কৃষকের।

তাদের মতে, চরের মাটি এখন অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় ফসলের ফলনও ভালো হচ্ছে। ফলে আগের দুঃখ-দুর্দশা কাটিয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রতন মিয়া জানান, প্রাকৃতিকভাবে উর্বর এ অঞ্চলের মাটিতে চরের পলি যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন আরও বেড়েছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় চাষিরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদি জমির পরিমাণ এবং উৎপাদন।

এক সময়ের ভয়াল ভাঙনের স্মৃতি পেছনে ফেলে এখন -এর চর ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেওয়ানগঞ্জের হাজারো চাষি—স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী এক আগামী দিনের।

পড়ুন: চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছে না ফিলিং স্টেশন, ৮ দফা দাবি মালিকদের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন