বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় নারীকে হত্যা

৫ লাখ টাকা না পেয়ে পেটে চাকু ডুকিয়ে হত্যা করা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের শাহিনুর আক্তারকে(২৫)। হত্যায় জড়িতদের একজন মোঃসুজন মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করে হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত বুধবার সুজন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এরআগে ২৭শে জুলাই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের চাঁন মসজিদ বাগান বাড়ী রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই সদস্যরা। গ্রেফতারের পর
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করতো বলে স্বীকার করলেও হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

২৮ জুলাই তাকে আদালতে প্রেরন করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

গত ১৬ই জুলাই সন্ধ্যা থেকে ১৮ই জুলাই রাত ৮ টার মধ্যে কোন এক সময়ে বাঞ্চারামপুর পৌর এলাকার কলোনীস্থ স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন মোঃ নজরুল ইসলামের বাসার নিচ তলার ভাড়া বাসায় খুন হন শাহিনুর আক্তার। এরপর বাইরে থেকে কক্ষ তালা দিয়ে চলে যায় হত্যাকারীরা। ১৮ই জুলাই তার পিতা মো: গিয়াস বাসায় এসে বাইরে থেকে পঁচা দূর্গন্ধ পেয়ে থানা পুলিশকে জানালে থানা পুলিশ এসে কক্ষের তালা খুলে ভেরে প্রবেশ করে শাহিনুরের পেট কাটা লাশ উদ্ধার করে।

এব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে বাঞ্চারামপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমার নির্দেশে ১৮ই জুলাই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ বেলাল উদ্দিন ও এসআই শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে পিবিআই ক্রাইমসিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। জেলার পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, একটি রহস্য জনক হত্যাকান্ড এবং আসামী অজ্ঞাত হওয়ায় এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ছায়া তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত আসামীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে মামলাটি অধিগ্রহণ করে এসআই শাহাদাত হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। মামলা তদন্তকালে পিবিআই’র একটি চৌকস টিম আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিগত সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করতঃ পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং আমার তত্বাবধানে মোঃ সুজন মিয়াকে(৩৭) সনাক্ত করে তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। সুজন দড়ি বাঞ্চারামপুরের মোঃ রফিক মিয়ার ছেলে।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, গত ১৭ই জুলাই সেসহ আরো ৩ জন পাঁচ লক্ষ টাকার জন্য শাহিনুরের ঘরে যান। শাহিনুর টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তারা ৩ জন শাহিনুরের পেটে চাকু দিয়ে আঘাত করিয়া হত্যা করে। এরপর রুমের বাইরে তালাবদ্ধ করে সকলে চলে যায়। সুজন নিজেকে আত্মগোপনে রাখতে প্রেমিকা তানিয়াকে সাথে নিয়ে ১৯শে জুলাই নরসিংদী ড্রীমল্যান্ড পার্কে ঘুরতে যায় এবং সেখানে হোটেলে রাত্রী যাপন করে।

হোটেল থাকা নিরাপদ নয় মনে করে প্রেমিকা তানিয়াকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে নারায়নগঞ্জে তার মেয়ের বাসায় উঠে। মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয়ে আবারো সে বাসা থেকে বের হয়ে ভবগুরের মত নারায়নগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় কয়েকদিন ঘুরাফেরা করে এবং রাস্তায় রাত্রী যাপন করে। ২৬ জুলাই কামরাঙ্গীরচর থানাধীন চাঁন মসজিদ বাগান বাড়ী রোড এলাকায় তার ছোট শ্যালকের বাসায় যায়। সেখান থেকে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযানে ৬০টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন