বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইজারা বাতিলের দাবি ব্যবসায়ীদের, কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শতবছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বাজারের পুরাতন বাঁশ বাজারে দোকান লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ব্যবসায়ীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনের আগে দুপুরে শহরের আনন্দ বাজার, টান বাজার, জগৎ বাজার, সড়ক বাজার, নিউ মার্কেট, চাউল বাজার ও সবজি বাজারের ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন।

মানববন্ধন চলাকালে আনন্দ বাজার মাছ ও শুটকি মহালের সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আনন্দ বাজার মাছ ও শুটকি মহালের সাধারণ সম্পাদক মো. মুত্তাকিম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসনাত ভজন, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ, টানবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী কমলালয়ের সত্ত্বাধিকারী আশিষ পাল, সবজি ও চাল মহালের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কালাম।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আনন্দবাজার জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী শত বছরের বেশি পুরানো বাজার। এই বাজারের পুরানো বাঁশ বাজারে প্রায় ২১ শতাংশ খাস জায়গা রয়েছে। গত কয়েক বছর আগে বাঁশ বাজারটি শহরের মেড্ডায় স্থানান্তর করা হয়। পরে শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতিতে আনন্দ বাজারসহ আশপাশের বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। এই জায়গা ব্যতীত ব্যবসায়ীদের ট্রাক, কাভার ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে আনা মালামাল উঠানো-নামানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। জায়গাটিকে স্থায়ী ভাবে ট্রাকের মালামাল আনলোডের জন্যে অনুমোদন দিতে ইতিপূর্বে পৌরসভার কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

এ অবস্থায় সম্প্রতি ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশের খাস জায়গাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩ জন ব্যক্তিদর নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বক্তারা জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা। পরে বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, খাস খতিয়ানের জায়গাটি ৩৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। জায়গাটি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৩৩ জনের নাম প্রকাশ করছি না। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, বাজার শ্রেণির হাট পেরিফেরিভূক্ত জায়গা। সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত বাজার শ্রেণির পেরিফেভূক্ত জায়গা হওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। হাট- বাজারের জায়গা ট্রাক রাখার জন্য বরাদ্দ দিতে পারি না। আমাদের ঝুঁলানো সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলায় ইউএনওকে মামলার করার নির্দেশ দিয়েছি।

পড়ুন: একটি সাঁকো উদ্বোধনে স্বস্তির হাসি সাত গ্রামের মানুষের

দেখুন: যে শহরের বাসিন্দাদের সবার আছে ব্যক্তিগত বিমান

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন