তিনি পরিবারের বড় সন্তান। অভাব-অনটনের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। কখনো এক বাড়ি, তো কখনো অন্য বাড়িতে দিন কেটেছে তাদের। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল—এক খণ্ড জমি কিনে বাবাকে একটি নিজের ঘর উপহার দেবেন, যেখানে থাকবে শান্তির নিশ্বাস। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা।
তিনি রুবায়েদ ইসলাম রুবেল, পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বাবা মানিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের কলেজপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। একসময় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সামনে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শত কষ্টের মাঝেও মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, বড় ছেলে রুবেলকে বানিয়েছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। ছোট দুই ছেলেও এখন লেখাপড়ায় ব্যস্ত।
রুবেল পড়াশোনা শেষে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। বাবার শারীরিক অসুস্থতা ও কর্মক্ষমতা হারানোর পর তিনিই সংসারের হাল ধরেন। সংসারে যখন একটু আশার আলো দেখা দেয়, তখনই অন্ধকার নেমে আসে—রুবেলের ব্রেনে ধরা পড়ে টিউমার। ডাক্তাররা জানান, তার দুটি অপারেশন প্রয়োজন, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
সবকিছু বিক্রি করে ও সহায়তা নিয়ে তারা ভারতে প্রথম অপারেশন করান, ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এখনো প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা, যা না হলে দ্বিতীয় অপারেশনটি সম্ভব নয়। সময়মতো অপারেশন না হলে রুবেলের জীবন হুমকির মুখে।
মানিক মিয়া বলেন, “আমি নিজেও অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারি না। বড় ছেলের অসুস্থতার খবরে আমি ভেঙে পড়েছি। সর্বস্ব দিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। আমার ছেলেকে বাঁচাতে আমি সবার কাছে মানবিক সাহায্য চাই।
পড়ুন: নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
দেখুন: বাবুরহাট-মাধবদীকে বাদ দিয়ে বিকল্প সড়ক চান না ব্যবসায়ীরা |
ইম/


