১০/০২/২০২৬, ২০:৫৮ অপরাহ্ণ
24 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ২০:৫৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি, বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন

ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বেড়েছে। এ সপ্তাহের জাতীয় নির্বাচনের পর সেটা আরও গভীর হতে পারে; যদিও রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, ভারত এত বড় প্রতিবেশী যে দেশটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেনি। তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। তিনি বর্তমানে ‘স্বেচ্ছা নির্বাসনে’ নয়াদিল্লিতে আছেন।

এদিকে ঢাকায় বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে চীন। অতি সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে দেশটি।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে প্রায়ই বাংলাদেশি রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। এসব বৈঠকের খবর চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজেও দেওয়া হচ্ছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনার অপরাধগুলোর সহযোগী ছিল ভারত, এমনটাই বলছিলেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তিনি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি বেশ এগিয়ে রয়েছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘যে দেশ একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয় এবং তাঁকে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ করে দেয়, সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া জনগণ মেনে নেবে না।’

যদিও তারেক রহমান কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার চেষ্টা করব। তবে অবশ্যই আমার জনগণ ও আমার দেশের স্বার্থ রক্ষা করে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে। খেলাটি দুই দেশেই তুমুল জনপ্রিয়। জনপ্রিয় এক বাংলাদেশি বোলারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এর সূত্রপাত। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে হিন্দু সংগঠনগুলোর চাপের মুখে এমনটা করা হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী মার্চ থেকে মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় আইপিএলের সম্প্রচার নিজ দেশে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠেয় পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই অনুরোধ রাখেনি। এর ফলে টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই একে অপরের জনগণের জন্য ভিসা–সুবিধা সীমিত করে রেখেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে বৈঠকের ঘটনা খুবই কমই দেখা গেছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় তারেক রহমানের মা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে শোক জানাতে জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের প্রতি বারবার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকার একটি আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর এই অনুরোধ আরও জোরদার হয়েছে। গণ–অভ্যুত্থানের সময় প্রাণঘাতী দমনপীড়নের নির্দেশ দেওয়ায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। তবে ভারতের সাড়া পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং আরও হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন। শেখ হাসিনা এসব হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : এবার ভারত মহাসাগরে চীনগামী ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন