জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ডক্টর ইউনুসের সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য ভারত থেকে মিলিটারীদের জন্য অস্ত্র কেনার ২১ বিলিয়ন টাকার চুক্তি বাতিল করেছে। এই চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল ড.খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে। তারপর থেকে একটি গোষ্ঠির গায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির নোয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল, দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ এবং সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে এক মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আবদুল হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ওই গোষ্ঠী মানুষকে বুঝাতে চাচ্ছে, ভারত থেকে অস্ত্র না কিনলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা মনে করছে, বাংলাদেশের মানুষ এখনো বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। আমাদের লড়াই হলে ভারতের সাথে হবে। আমরা যদি ভারত থেকে অস্ত্র কিনি তাহলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সাথে কখনো সেই অস্ত্র দিয়ে লড়াই করতে পারবে না। আজকের রাজনৈতিক বিভিন্ন দল এবং মিলিটারি শক্তি সহ অনেকে আজ ঐক্যবদ্ধ দিল্লির সেই দাসত্ব নাকে খত দিয়ে মেনে নেয়ার জন্য।
তিনি বলেন, ভারত আমাদের বারবার চোখ রাঙ্গানি দিচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলে চাপে ফেলে ভারত আমাদের দেশের শিল্প খাত, চিকিৎসা খাত, কৃষি খাতকে পথে নিয়ে গেছে। ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে বাধ্য করা হয়েছিলো, মিলিটারি শক্তিকে দায়বদ্ধ করা হয়েছিলো। তাদের পুরানো ট্যাংক, হেলিকপ্টার যেগুলো তারা ব্যবহার করতে পারত না সেগুলো বাংলাদেশের কাছে তারা জোরপূর্বক বিক্রি করতো।
এনসিপি’র এই সমন্বয়ক বলেন, এনবিআর থেকে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেক্টর এনবিআর। সেই এনবিআর সংস্কারে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ সরকার বলছে কর আরোপ করবে একটি সংস্থা, কর আদায় করবে অন্য একটি সংস্থা। এ সরকার যখনই এনবিআর, বন্দর সংস্কারে হাত দিয়েছেন, তখনই একটি গোষ্ঠির গায়ে জালাপোড়া শুরু হয়েছে। তাদের চিন্তা, এনবিআরের চুরির সিস্টেম তারা আগের মতই রাখতে চায়।
তিনি বলেন, সরকারি চাকুরীজীবীদের দুর্নীতি বন্ধে যখনই ‘দুর্নীতিগ্রস্থদের সরকার চাইলে চাকুরীচ্যুত করতে পারবে’ এমন প্দক্ষেপ নিয়েছে, তখনই ফ্যাসিবাদী আমলা চক্র সরকারের বিরুদ্ধে নেমেছে। যুগ পরিবর্তনের জন্য এক হাজার ব্যক্তির প্রয়োজন নেই, বিপ্লবী নেতৃত্বের কয়েকজনই যথেষ্ট।
বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে তিনি বলেন, সাইফ পাওয়ারটেকসহ দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সমুদ্র বন্দর দখল করে রেখেছে আওয়ামী এক ফ্যাসিবাদী শক্তি। যারা দীর্ঘ সময় থেকে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের এক-চতুর্থাংশ দখল করে রেখেছে। এই দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। যখন আমরা বলছি আমাদের বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন দরকার, আধুনিক নিয়ম-নীতি দরকার, এমন একটি কোম্পানির মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থাপনা দরকার যার ফলে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সমুদ্র বন্দরে রূপ নেবে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর। ঠিক তখনই একটি শ্রেণীর গায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হয়েছে। তারা কি ভুলে গেছে সাইফ পাওয়ারটেকের ইতিহাস? এদেশের হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাটের ইতিহাস? তারা আসলে কাদেরকে সুবিধা দিতে চাচ্ছে? আমরা সেটা প্রশ্ন রেখে গেলাম।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নোয়াখালী জোনের তত্ত্বাবধায়ক মুনতাসির মাহমুদের সভাপতিত্বে ও হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভার প্রস্তুতি সভার উদ্ভোধন ঘোষণা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাহমুদুল হাসান রিজভীর মা ফরিদা ইয়াসমিন। এসময় কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এডভোকেট হুমায়রা নূর, যগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান, নোয়াখালীর সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

