মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবমেরিনের হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় অন্তত ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর ওই জাহাজে মার্কিন হামলায় আরও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরে ইরানি জাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ডুবে যাওয়া জাহাজের প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে, শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, নথি অনুযায়ী জাহাজে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি জাহাজে সাবমেরিন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। বলা হয়, এতে কমপক্ষে ১০১ জন নিখোঁজ এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানায়, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ ভারত মহাসাগরে ডুবে গেছে এবং জাহাজটিতে থাকা প্রায় ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া বুধবার নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমার ঠিক বাইরে ডুবতে থাকা ইরানি ফ্রিগেট ‘আইরিস ডেনা’ থেকে ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করার কথা জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর দেয়। সে সময় জাহাজটির সমস্যার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবমেরিন হামলার শিকার জাহাজ আর ডুবতে থাকা ‘আইরিস ডেনা’ একই জাহাজ কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হেরাথ পার্লামেন্টে জানান, আহত নাবিকদের দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ১৮০ জন ক্রু-সদস্যের ফ্রিগেটটি এদিন ভোরের দিকে বিপৎসংকেত পাঠায়।
হেরাথ বলেন, উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি বিমান মোতায়েন করা হয়। তবে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডোবার কারণ জানাননি তিনি।
পার্লামেন্টে এক বিরোধী আইনপ্রণেতা জানতে চান, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার অংশ হিসেবে জাহাজটিতে বোমা হামলা হয়েছিল কি না। তবে এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পাথ বলেন, তাদের অভিযান শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
পড়ুন : ইরানে হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র


