ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করা নাগরিক টেলিভিশন পা রাখলো নবম বছরে। সংকট, সংগ্রাম, সম্ভাবনা আর প্রতিশ্রুতির গল্পে কেটে গেছে আটটি বছর। নবযাত্রার শুরুতেই ঘোষণা ছিল-শুধু তথ্য বা বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, সম্পর্কের মায়ায় জড়িয়ে থাকবে নাগরিক। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় ২০১৮ থেকে ২০২৬-এই নয় বছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে চ্যানেলটি, একইসঙ্গে দর্শকের আস্থার অদৃশ্য সুতায় গড়ে তুলেছে এক স্থায়ী বন্ধন।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আর দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ের চাপে যখন গণমাধ্যম নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দাঁড়িয়ে মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে নাগরিক। শীতল সংবাদমাধ্যমের পরিবেশে উষ্ণতার স্পর্শ নিয়ে এগিয়েছে তাদের স্বপ্নযাত্রা। গণমানুষের কথা বলার অঙ্গীকারে, জাত-পাত আর বিভেদের দেয়াল ভাঙার প্রত্যয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তারা।
এই স্বপ্নের নকশা এঁকেছিলেন প্রয়াত সফল ব্যবসায়ী ও সাবেক মেয়র আনিসুল হক। ঝিমিয়ে পড়া ঢাকাকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি কল্পনা করেছিলেন এমন একটি গণমাধ্যম, যেখানে মানুষ ঋদ্ধ হবে সম্পর্কের মমতায়, শুধু অর্থ বা প্রভাবের দাপটে নয়। সেই কল্পনার অঙ্কুরোদগমই নাগরিক টেলিভিশন। তবে সূচনালগ্নেই তাকে হারাতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। যখন ঝলমলে পর্দায় তার স্বপ্নের প্রতিফলন, তখন তিনি ওপারের মায়ায়। তবু তার দর্শনই হয়ে ওঠে নাগরিকের অন্যতম চালিকাশক্তি।
সময়ের বাঁকে নদী যেমন গতিপথ বদলায়, নাগরিকও পেরিয়েছে চড়াই-উৎরাই। রাষ্ট্র ও সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন করে পথচলা শুরু করেছে চ্যানেলটি। বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক এবং পুত্র নাভিদুল হক। তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
গত আট বছরে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নাগরিক অর্জন করেছে সব শ্রেণির দর্শকের আস্থা। পাশাপাশি ক্রিকেট-ফুটবলসহ দেশি-বিদেশি খেলাধুলা সরাসরি সম্প্রচার এবং বাংলা সিনেমা-নাটক, গান ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরে বিনোদন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রেখেছে সমান পদচারণা।
সময়ের পালাবদলের হাওয়া লেগেছে নাগরিকেও। টেলিভিশনের পাশাপাশি ভার্চুয়াল মাধ্যম ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তারা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে নাগরিক ওয়েব সাইট পাঠক মনে আস্থা তৈরি করছে।
পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের এই যাত্রাপথে নাগরিক আরও দৃঢ় করতে চায় দর্শক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা ও ক্যাবল অপারেটরদের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন। নবম বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে প্রত্যাশা-আস্থা, দায়িত্বশীলতা ও সম্পর্কের মায়ায় আরও শক্ত হোক নাগরিকের অঙ্গীকার।
পড়ুন: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত
আর/


