বিজ্ঞাপন

ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ: সাহারবাটি ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চরম অভিযোগ

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের হাতে না পৌঁছে আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারার বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়নের জোড়পুকুর, সাহারবাটি এবং আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০০ জন কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। অথচ ওইসব কার্ডে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত ডকুমেন্ট (ফিলিপ) দেয়া হয়েছিল। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল না পেয়ে বিকেল শেষে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে অসহায় মানুষদের।

জোড়পুকুর গ্রামের দিনমজুর মাওলা বক্স কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মা ও ভাবীর নামে চালের কাগজ ছিল। কিন্তু সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো চাল পাইনি। ওনারা (চেয়ারম্যানপক্ষ) বললো, চাল শেষ। আমাদের মতো আরো অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, যারা পেটে ভাত জোটাতে পারেন না, সেই মানুষের মুখের চাল লুট করার মত ঘৃণ্য কাজ আর কিছু হতে পারে না। সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে যারা ব্যক্তিগত সম্পদ বানানোর চেষ্টা করেন, তারা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পান—এমনই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

অভিযোগ উঠেছে, চাল বিতরণের তালিকা থেকে প্রকৃত কার্ডধারীদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে কাগজ বানিয়ে চাল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, এটি নিছক অনিয়ম নয়, এটি সুপরিকল্পিত চুরি।

ভুক্তভোগীরা এই অনিয়মের বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনকে ফোনে অবহিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, বারবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক সেফাত মেহনাজ জানান, ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পড়ুন: মেহেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাগল ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আহত ৪

দেখুন: রাজধানীর পশুর হাটে ক্রেতার তুলনায় কম বেচাকেনা |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন