সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের ১০ কেজি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে চাল নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও প্রায় দুই শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র কার্ডধারী চাল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কার্ডধারীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তারা সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসে লাইনে দাঁড়ান। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু বিকেল প্রায় চারটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার উপস্থিত লোকজনকে জানান, চাল শেষ হয়ে গেছে এবং আর চাল বিতরণ করা সম্ভব নয়।
এ সময় চাল না পাওয়া অসহায় মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সকাল থেকে কার্ড হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় দুই শতাধিক কার্ডধারী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চাল শেষ হয়ে গেল—এ প্রশ্ন তোলেন তারা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সকাল থেকে চাল পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু চাল না দিয়ে আমাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। এমনকি আমাদের গায়ে হাতও দেওয়া হয়েছে।”
আরেক নারী অভিযোগ করেন, “আমাদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আমরা নারী মানুষ, আমাদের কি কোনো সম্মান নেই?”
একজন বৃদ্ধা জানান, তিনি সকাল থেকে কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তাকে চাল না দিয়ে তার কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান আমার কার্ড নিয়ে বলেছে চাল নাই, চলে যাও। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কাশেম জানান, চাল বিতরণের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির কারণে অনেকেই দ্রুত চাল নিয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই চাল শেষ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনের লোকজনও আশপাশে ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই হুড়োহুড়ির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বলেন, “বেপারিরা হুড়োহুড়ি করে চাল নিয়ে যাওয়ায় দ্রুত চাল শেষ হয়ে গেছে। তবে যেসব কার্ডধারী চাল পাননি তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও তাদের চাল দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, চাল না পাওয়া কার্ডধারীরা তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পড়ুন:সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
দেখুন:শিক্ষার্থী নি/হ/তে/র পর পলাতক শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা |
ইমি/


