শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ও ডিএমখালি ইউনিয়নে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি এমআইডি ইটভাটায় বিক্রি করা অভিযোগ উঠেছে। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেই কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে করে এলাকার নতুন পুরাতন কার্পেটিং রাস্তার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। একটু বৃষ্টিতেই ঘটতে পারে সড়ক দুর্ঘটনার মত বড় কোন ঘটনা।
প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের কারণেই দিন ও রাতের আঁধারে কৃষি জমির টপসয়েল কেটে মাটির পাহাড় গড়ছে ভাটাটিতে। ভেকু মালিকদের ভয়ে প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছেন না কৃষকরা। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশায় খোদার কাছে ফরিয়াদ করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের মৃত জয়নাল হক সিকদারের টেলিপোর্টের রাস্তায় ডান পাশ থেকে জমির মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে ডিএমখালী ইউনিয়নের চরহোগলা গ্রামে ৪টি ভেকু দিয়ে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন কৃষি জমির টপসয়েল কেটে মাহিন্দ্র গাড়ি ভর্তি করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। সন্ধার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এ কর্মযজ্ঞ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কার্তিকপুর বাজার থেকে সখিপুর ও ডিএমখালি দিকে নতুন কার্পেটিং রাস্তাটিও। অবৈধ বিশাল আকৃতির মাহিন্দ্র গাড়ি সরু এ রাস্তাটিতে মাটি ভর্তি করে চলাচল করায় অল্পসময়ের মধ্যে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে ধারনা করছেন স্থানীয়রা।
এসব কৃষি জমিগুলোতে চাষবাস করে যে সমস্ত কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের স্বাভাবিক জীবনও পড়েছে হুমকির মুখে।
স্থানীয় কৃষক রহিম ও বাদল বলেন, আমাদের বাপদাদার জমি এখন খাস হয়ে গেছে। আমরাই চাষবাস করে খাই। যারা মাটি কাটছে তারা অনেক প্রভাবশালী। বাধা দেয়ার শক্তি তো আমাদের নাই।
স্থানীয় সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকারি রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। ও প্রতিনিয়ত মাটি পড়ে রাস্তা খারাপ ও ধুলাবালি দিয়ে আমাদের বাড়িঘর নষ্ট হচ্ছে। কেউ দেখার নেই।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজুল হক বলেন, ওইখানে আগে অভিযান হয়েছে। নিয়মিত মামলাও হয়েছে দুইজনের নামে। আবার যদি চালায় তাহলে খোজ নিয়ে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।


