শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে বেশ কয়েকটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। এ যেন ফসলি জমি ধ্বংসের হিড়িক চলছে। বাদ পড়ছে না সরকারি খাস জমিও। দিনের পর দিন এভাবেই আইন অমান্য করে কৃষি জমি ধ্বংস করা হলেও কৃষি জমি রক্ষায় দৃশ্যমাণ কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।
জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না- এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা তিন ফসলি কৃষি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুরে। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ফসলি জমিতে পুকুর খননের লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছেন। উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে এক্সাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে ৮ ফুট গভীর করে জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের এই মহোৎসব চলছে।
দিন-রাত বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামে মেঘনা নদীর পাড়ে ২০-২৫ কানি জমিতে ভেকু দিয়ে কৃষি জমি কেটে মাছের ঘের খনন কাজ করছে বিএনপি নেতা মোমিন দিদার। ছয়গাঁও ইউনিয়নের লাকার্তা এলাকায় চলছে ২ টি ভেকু দিয়ে কৃষি জমি কেটে মাছের ঘের খননের কাজ। মহিষার ইউনিয়নে বাড়ইজঙ্গল এলাকায় গভীর রাতে চলছে ভেকু দিয়ে মাটি খননের কাজ।ডিএমখালী ইউনিয়নের চরহোগলা গ্রামের মিয়াচান সরকারের কান্দি আবুল হাওলাদারের বাড়ির দক্ষিনপাশে ২ টি ভেকু দিয়ে কৃষি জমির মাটির খনন করে এমআইডি ব্রিকস ফিল্ডে বিক্রি করছে একটি চক্র।
বরিশাল, চাঁদপুর, মাদারিপুর, এমনকি রাজধানী ঢাকা থেকে এসে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের এই উৎসব চলছে। ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভূক্ত জমিও এই পুকুর দসু্যদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
পড়ুন: খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিতে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার
দেখুন: নেত্রকোনায় ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার |
ইম/


