কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত করাতকল (স-মিল) এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তিনটি স-মিলের মালিককে মোট ১৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ২০টিরও বেশি স-মিল ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব স-মিলের অধিকাংশেরই বন বিভাগের অনুমোদন নেই এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভৈরব শহরের কাঠ বাজার এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক।
অভিযান চলাকালে তিনটি স-মিলে প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র এবং স-মিল পরিচালনার অনুমোদন না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে ‘করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২’-এর ১২ ধারায় তাদের জরিমানা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত স-মিলগুলো হলো—
মেসার্স ভুঁইয়া স-মিল ১০ হাজার টাকা,
মেসার্স আজগর স-মিল ৪ হাজার টাকা
মেসার্স মজনু মিয়া, স-মিল- ৩ হাজার টাকা
অভিযানে কিশোরগঞ্জ জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা এবং থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবৈধভাবে স-মিল পরিচালনা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং বনজ সম্পদের জন্য বড় হুমকি। তাই এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে অভিযুক্ত স-মিল মালিকরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন- নোয়াখালীতে জ্বালানি সংকট, চালকদের পানি-স্যালাইন দিল ছাত্রদল


