৩০/০১/২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
৩০/০১/২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ভোটের মাঠে সহিংসতা, বাড়ছে আতঙ্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরে নির্বাচনি সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

জামায়াত নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর কিছুক্ষণ পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াত নেতার মৃত্যু এবং দেশব্যাপী সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

এদিকে, শেরপুরের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, এই নিন্দনীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন দাবি করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দেবো, তবু জনগণের অধিকার হরণ হতে দেবো না। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না।”

তিনি আরও বলেন, “এখন ভরা মাঘ মাস, এখনই মাথা এত গরম হলে চৈত্র মাসে কী হবে? গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না।”

দেশব্যাপী সহিংসতার বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “জনগণ যার পাশে থাকে কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি। বিএনপি আজ এই পর্যায়ে এসেছে মানুষের ভালোবাসায়। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।”

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, “এক স্বৈরাচারকে হটিয়ে নতুন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। চাঁদাবাজির রাজনীতির কাছে দেশের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

দিকে জামায়াতের সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগোচ্ছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের কিছু না বলে জামায়াত অন্য দলকে যুক্ত করেছে। জোটের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়েছে জামায়াত। সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমাদের একটা বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল ইসলামের পক্ষে একটা বড় উত্থান হবে। সেই আশা অন্ধকারে পরিণত হয়েছে।”

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন, সরকার, এনসিপি ও জামায়াত মিলে মিশে এখন একটি ‘সরকারি দলে’ রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত এই কাঠামোর অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, আমরা কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছি না।” প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন ভালো হবে না।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ ও ইইউ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন