বিজ্ঞাপন

ভোট দেয়া হচ্ছে না নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে সীমিত ছুটি, দূরপাল্লার যাতায়াতের ভোগান্তি, ভোটের পরপরই সেমিস্টার পরীক্ষা এবং আর্থিক সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকার পরও নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছেলেদের দুটি ও মেয়েদের দুটি আবাসিক হলসহ মোট চারটি হলে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্বল্প সময়ের ছুটিতে দূরবর্তী এলাকায় যাওয়া-আসা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশই জানিয়েছেন, এটি তাদের জীবনের প্রথম ভোট হওয়ার কথা ছিল।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই বাড়ি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও পটুয়াখালীর মতো দূরবর্তী জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা স্বল্প সময়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়াকে কষ্টসাধ্য বলে মনে করছেন। ফলে ইচ্ছা থাকার পরও অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।

ক্যাম্পাসে অবস্থানরত ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা রহমান বলেন, আমার বাড়ি বরগুনা, যা বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় ৩৫১ কিলোমিটার দূরে। ছুটি শেষের পরদিনই আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এ কারণে ইচ্ছা থাকার পরও এই স্বল্প ছুটিতে নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি যেতে পারিনি। দীর্ঘ ভ্রমণ করলে পড়াশোনার প্রস্তুতি ব্যাহত হতো। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি যাওয়া হয়নি।

হলে অবস্থানরত চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ জাহান নিলয় বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেও বাসা দূরে হওয়ায় ভোট দিতে যেতে পারছি না। নির্বাচনি ছুটিতে যানবাহন চলাচল খুবই সীমিত, আর যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় ভাড়াও তিন-চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সবমিলিয়ে ইচ্ছা থাকার পরও প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারাটা সত্যিই কষ্টদায়ক।

ছুটিতে বাসায় ফিরতে না পারা নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ভোট দেয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকার পরও এবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমার বাড়ি পঞ্চগড়ে, ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে হওয়ায় স্বল্প সময়ের ছুটিতে যাতায়াত করা বাস্তবসম্মত ছিল না। হাতে মাত্র চার দিনের ছুটি ছিল, যা পথে আসা-যাওয়াতেই প্রায় শেষ হয়ে যেতো।

এছাড়া ভ্রমণব্যয় সীমার তুলনায় একটু বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। সামনে আবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি রয়েছে, তখন পরিবারের সান্নিধ্যে থাকার পরিকল্পনাও মাথায় রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে তাই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য থেকেই গেল। সত্যি বলতে প্রবল ইচ্ছে ছিল কিন্তু পরিস্থিতি সহায়ক হলো না।

পড়ুন:কানাডায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০

দেখুন:মুখ ফিরিয়েছে বাংলাদেশ, অথৈ সাগরে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসা | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন