বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলা জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হওয়ায় জেলার তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা এ চার উপজেলায় সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির তালিকায় দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা ।তবে ভোলা সদর উপজেলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি।ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলাগুলোর মধ্যে তজুমুদ্দিন ও মনপুরার বেশ কিছু গ্রাম ও মূল ভূখন্ড থেকে বিছিন্ন চরের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।এতে করে সেখানকার মানুষের বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত,গবাদিপশু ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি।
জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী,তজুমুদ্দিন উপজেলার মলনচরের একাংশ এবং চর মোজাম্মেল পানিতে প্লাবিতে হয়েছে। উপজেলাটির নির্মানাধীন স্লুইচ গেটের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আরো ১৬টি গ্রাম পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে মনপুরা উপজেলার চর কলাতলী ইউনিয়ন ৩/৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ৩টি গরু, ৫টি ছাগল ও ১৪৫টি হাঁস- মুরগী মারা গেছে।চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর এবং চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন ৩/৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে এতে ঢালচর ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে বাঁধ ভেঙে ওই এলাকায় পানি প্রবেশ করে। বোরহানউদ্দিনে হাকিমুদ্দিন বাজার ১/২ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলাটির হাসান নগর ইউনিয়নে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।এদিকে ভোলা সদরের চর চুটকীমারা এলাকার কিছু অংশ পানিতে ডুবে গেছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্বিক ক্ষতিগ্রস্ত একটি তালিকায় দেখা গেছে ৪৬টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভাকে দূর্যোগ কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।এসব এলাকার আনুমানিক ৬৪ হাজার ২৪৪ জন দূর্গত মানুষ ও ৫ হাজার ৩শ ৬৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এর মধ্যে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়া ঘরের সংখ্যা ১০৮ টি।তবে এ তালিকায় গবাদিপশু, কৃষিজমি ও ফসল, মাছের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।
জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রানের চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হচ্ছে।
এদিকে আজ সকাল থেকে ভোলায় এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয় নি।তবে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।নদীর পানিও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
এনএ/


