দ্বীপ জেলা ভোলাকে বলা হয়ে থাকে— দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির চারণভূমি। বরিশাল বিভাগীয় ২১টি আসনের মধ্যে ভোলাতেই রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ভোলা-১ আসনের পরেই ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) হেভিওয়েটদের আসন হিসেবে বেশি বিবেচিত। এ আসনে সবসময় হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলটি থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করা গেছে এ আসনে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী রয়েছেন। আর জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি ও অন্য ইসলামি দলগুলো এখনও তাদের মাঠ গোছাতে পারেনি। তবে আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপির প্রার্থীও থাকবে বলে জানিয়েছে দুদল। মূলত মাঠে এখন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা স্বপ্ন বুনছে।
এ ছাড়া ভোটাদের আলোচনাই বলা যাচ্ছে- ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে আসল লড়াইটাই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মাঝে। এ আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনজন। যদিও এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, ডাকসুর এজিএস ও সাবেক বিএনপির ভোলা- ৪ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী ভোলা জেলার দলটির সাবেক আমির ও বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল পরিচালনা টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল।
মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম এ আসন থেকে ২০১৮ সালেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পতিত আওয়ামী সরকারের বিগত ১৫ বছর রাজপথে অসংখ্য বার হামলা শিকার হয়েছেন তিনি। সাভার আমিনবাজারে মাথায় ও লিভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিয়ে এক যুগেরও বেশি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন নাজিম উদ্দিন আলম।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নাজিম উদ্দীন আলম আমার দেশকে বলেন, রাজপথ কখনো বেইমানি করে না, রাজপথের পরিশ্রম কখনো বৃথা যেতে পারে না। আগামীতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান অবশ্যই আমাকে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ।
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি। ভোলা-৪ আসন থেকে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে দলের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করে নেন। এবার মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিংয়ের পাশাপাশি এলাকায় রমজান ও ঈদুল আজহায় এসে গণসংযোগ করেছেন। প্রতিটি হাট-বাজারে পথসভায় ও সমাবেশ করেছেন।
নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে আমার দেশকে তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন হউক বা অন্যকিছু, তা যত বড় কিছুই হউক বা ক্ষুদ্র। একজন মুসলিম হিসেবে আমি আল্লাহ্ সুবহানাওয়াতা’য়ালার ইচ্ছার ওপরই ভরসা রাখি। হ্যাঁ, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমার প্রত্যাশা আছে, সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আস্থা আছে। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ভোলা-৪ আসনের জনগণের সার্বিককল্যাণ ও উন্নয়নের ইস্যুতে আমার অনেক বাস্তবমুখী পরিকল্পনা রয়েছে। সেসবের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, মাদকমুক্ত সমাজগড়া ও ট্যুরিজম অন্যতম।
এডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া: সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রদল বি এম, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমি ভোলা- ৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবো। আমি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হতে পারলে চরফ্যাশন তথা ভোলার প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে বিদেশ প্রেরন করবো, চরফ্যাশনে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবো। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মাদক ও দুনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।পাশাপাশি ইতোমধ্যে, চরফ্যাশনে নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহনে কর্তৃপক্ষের কার্যকারী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছি। ইনশাআল্লাহ
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলার সাবেক আমির ও বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল পরিচালনা টিম সদস্য তিনি। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। একাধিকবার গ্রেফতার ও জেলে গিয়েছেন। পতিত সরকারের আইনশৃংখলা নামের গুন্ডাবাহিনী তার বড় ছেলেকে গুম করে হত্যা করে লাশ রায়েরবাজার বাধ্য ভূমিতে ফেলে রাখে। তাকে বিগত ১০ বছর তার কর্মরত প্রতিষ্ঠান এওয়াজপুর অজুফিয়া আলিম মাদরাসায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার পাশাপাশি বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের হাতে নির্যাতিত অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামালকে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসন থেকে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরার প্রতিটি ইউনিয়নে গত মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যাপক লোকের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রেখেছেন। এখনও সভা, সমাবেশ ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আমার দেশকে বলেন, বিগত সময় যারা এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা জনগণের জন্য কি করেছেন সবাই তা জানে। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হতে পারলে
চরফ্যাশন ও মনপুরাকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস মাদক, দুনীতিমুক্ত করার পাশাপাশি এখানে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। জনগণের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিমসহ সকল ধর্মের লোকদের নিরাপত্তার বিধান নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
স্থানীয় একাধিক সচেতন নাগরিক আমার দেশকে বলেন, এ উপজেলায় বিএনপির রয়েছে একাধিক গ্রুপ। এর মধ্যে প্রকাশ্যে রয়েছে তিনটি গ্রুপ। তারা নিজেরা এখন কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। তাদের গ্রুপিং রাজনীতির নিরসন না হলে জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে।
এবারের মনোনয়ন যুদ্ধে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে কে পাবেন টিকিট এটা কেউ সঠিক করে বলতে না পারলেও আগামী নিবার্চনে এ আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াত এ দুদলের মধ্যে হবে লড়াই এমনটাই মনে করেন এ আসনের অধিকাংশ ভোটার।
পড়ুন: পীরে কামেল শাহ্-সুফী খাজা আবুল শাহ্ চিশতী (কুচবিহার) মাজারে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন
দেখুন: রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটে নাকাল মানুষ
ইম/


