বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটন খাতে ২০ দিনে ক্ষতি ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে সৃষ্ট যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।এ সংঘাতের ফলে অঞ্চলটির পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। যুদ্ধের মাত্র ২০ দিনের মাথায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

চলমান সংকটে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় এ দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যমতে, অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রতিদিনের ব্যয় অন্তত ৬০ কোটি ডলার কমেছে।

হিসাবটি যুদ্ধের প্রথম ২০ দিনের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে শুধু পর্যটকদের সরাসরি ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালনা ক্ষতি, জ্বালানির বর্ধিত দাম ও ফ্লাইট বাতিলের মতো বিষয়গুলো এ হিসাবের বাইরে রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি।

যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। আকাশপথ অনিরাপদ হওয়ায় লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্স-কেএলএমের মতো ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলো এপ্রিল পর্যন্ত এ অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইনস ও পেগাসাসও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। এমিরেটস ও ইতিহাদ অল্প পরিসরে বিমান চালালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৫২ লাখ যাত্রী সামলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে এ ব্যস্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম থমকে গেছে। কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোও এখন প্রায় বন্ধ। যুদ্ধের আশঙ্কায় পর্যটকরা বুকিং বাতিল করছেন। শুধু যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই দুবাইয়ের বিভিন্ন হোটেলে ৮০ হাজারেরও বেশি রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন জনশূন্য। বিদেশী পর্যটকদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে এবং অনেক হোটেল এখন সামরিক বাহিনীর আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পর্যটন খাত থেকে ২০৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি এ লক্ষ্যমাত্রাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এমনকি সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’-এর মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ও প্রচারের গতিও ধীর হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে পবিত্র মক্কা ও মদিনাতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পড়ুন- আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি : প্রধানমন্ত্রী

দেখুন- নারায়ণগঞ্জে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন