বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দরিদ্র হতে পারে বিশ্বের ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ : জাতিসংঘ

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

ইউএনডিপি বলছে, বিশ্ব বর্তমানে জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; এই ত্রিমুখী সংকটের সম্মুখীন। সংস্থাটির মতে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের অর্জনগুলোকে উল্টে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলে অসমভাবে পড়বে।

ইউএনডিপি প্রধান ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, ‘এই ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। যুদ্ধ থামলেও এবং যুদ্ধবিরতি স্বাগতযোগ্য হলেও, এর প্রভাব ইতোমধ্যে রয়ে গেছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখা যাবে, যা মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, যারা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার এতে ফিরে যাচ্ছে।’

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম বিমান হামলার পর গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সার সরবরাহ এবং বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান সতর্ক করেছেন যে এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা স্থায়ী ক্ষতি করবে।

ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইউএনডিপি জানিয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি সামলাতে বৈশ্বিক সক্রিয়তা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের নগদ অর্থ সহায়তার (ক্যাশ ট্রান্সফার) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডি ক্রু বলেন, ‘মানুষকে দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়া ঠেকাতে স্বল্পমেয়াদি নগদ সহায়তার ইতিবাচক অর্থনৈতিক ফলাফল রয়েছে।’ তবে ঢালাও ভর্তুকির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে সংস্থাটি, কারণ এটি আর্থিকভাবে টেকসই হবে না এবং ধনী পরিবারগুলোকেও অনাবশ্যক সুবিধা দেবে।

প্রতিবেদনে যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং আট মাস ধরে উচ্চমূল্য বজায় থাকে তবে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নেমে আসবে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দৈনিক ৮.৩০ ডলারের নিচে আয়কে এখানে দারিদ্র্যসীমা ধরা হয়েছে।

এই দারিদ্র্য বৃদ্ধির অর্ধেকই ঘটবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে, যার মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আরেক দফা সংলাপ নিয়ে পাকিস্তানের নতুন বার্তা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন