ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সরকারি খাদ্যগুদামগুলোয় বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে প্রত্যাহার করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের পদায়ন করা হচ্ছে। অভিযোগের তীর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম ও আওয়ামী দোসর মো. মাজহারুল ইসলাম কামালের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দিকে। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কেউই মুখ খুলতে রাজি নন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া সদর খাদ্যগুদামে সম্প্রতি মেয়াদ শেষ না হতেই বিধিবহির্ভূতভাবে একজন উপপরিদর্শককে পদায়ন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকার কথা। অভিযোগ ওঠার পর ওই পদায়ন আদেশ পরে বাতিল করা হয়।
নেত্রকোনা সদর, ঠাকুরাকোণা, ময়মনসিংহের গৌরীপুর, তারাকান্দা, ধলা ও শ্যামগঞ্জ গুদামে দেখা গেছে, দুই বছর পূর্ণের আগেই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বদলি করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গেলো ১৯ আগস্ট ময়মনসিংহের তারাকান্দা গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাল হোসেনকে দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২৫ দিন আগেই পারিবারিক সমস্যার কারণে বদলি করা হয় ফুলবাড়িয়ায়। একই দিন তারাকান্দায় পদায়ন করা হয় শাকিল আহম্মেদকে। তার মতো অনেককেই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মেয়াদ শেষের আগেই বদলী করা হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ক্যামরায় কথা বলতে রাজি নয় তবে তারা জানাচ্চেছন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে চাপ দিয়ে পারিবারিক সমস্যার আবেদন করতে বলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতনের কথা না মানলে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই সবাই বাধ্য হয়ে আবেদন করেছে।
বদলি-বাণিজ্যে এখন প্রতি পদায়নে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বদলি-বাণিজ্যের মূল হোতা। পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করছেন খাদ্য পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম কামাল। তবে আশরাফুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
তবে বদলী বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয় খাদ্য মন্ত্রণালয় খাদ্য অধিদপ্তরে একাধিক বার যোগযোগ করা হলেও কথা বলতে আগ্রাহী হয়নি কেও। তবে কি সিন্ডিকেটের কবলেই পড়ে থাকবে খাদ্য মন্ত্রণালয়?
পড়ুন : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া


