ময়মনসিংহ মহানগরীর বড়বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ফয়জুর রহমান বড় মসজিদে চরম উত্তেজন প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন । উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার রাতে শহীদ হুজুর নামে একজন আহতও হয়েছেন। এ নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্বে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে র্যাব এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করতে জেলা প্রশাসক প্রতিষ্ঠানে আজ মঙ্গলবার থেকে ছুটির আদেশ দিলেও শিক্ষার্থীরা এক অংশ শিক্ষকদের উস্কানীতে উপেক্ষা করে আন্দোলনে ।
মাদরাসার মুহতামিমের স্বাক্ষর সম্বলিত পাল্টা একটি এলান প্রচার করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২য় সাময়িক পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় মঙ্গলবার থেকে যথাযথ জামিয়ার সকল একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকবে। এজন্য সকল ছাত্রকে জামিয়ায় উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা মাদ্রসাতেই ছিলেন। শিক্ষা কার্যক্রমও চলেছে।
জানা গেছে ঘটনার শুরু জামিয়ার শিক্ষক আজিজুল হকের বিরুদ্বে চারিত্রিক ও আর্থিক কেলেংকারীর অভিযোগ আনা নিয়ে। এ অভিযোগ উঠে গত বছরের ২৭ অক্টোবর। এরপর এটি নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে তদন্ত হয়। এ বিষয়টি নিয়ে মাদ্রসাতে পক্ষ বিপক্ষ দুটি গ্রুপ তৈরী হয়। এ দু’গ্রুপে কয়েকমাস ধরেই উত্তেজনা ছিল। গত সোমবার প্রশাসনের সাথে উভয়পক্ষের বৈঠকের পর রাতে এশার নামাযের পর মাদ্রাসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়। এসময় ১ জন আহতও হয়।
এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুপুরে মাদ্রাসা এলাকায় সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, দোষীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তারা জেলা প্রশাসকের পদত্যাগ চান।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়ে যাওয়ার পর মারামারি ও ১ জন আহত হওয়ার ঘটনা দু:খজনক। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে সোমবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, এই সমস্যা একবারেই ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক। এই সমস্যা প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়ে সামজিক অস্থিরতা এবং বিদ্বেষ বাড়াচ্ছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সামাজিক ও প্রশাসিনক কঠোরতার বিকল্প নেই।
পড়ুন: তারেক জিয়ার ৩১ দফা মানেই আগামীর বাংলাদেশ: কবীর আহমেদ ভূঁইয়া
দেখুন: কেমন ছিলো বাংলাদেশের ১২টি জাতীয় নির্বাচন?
ইম/


