রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের দ্বারা পরিচালিত ব্যাপক ড্রোন হামলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা রাশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছে। হামলার পর মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শহরের আবাসিক এলাকাগুলিতে ক্ষতি হয়েছে।

মস্কোতে মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন,
এই হামলাটি ছিল মস্কো শহরে সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন আক্রমণ। ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা আন্দ্রেই কোভালেঙ্কো জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা গ্রহণের দিকে উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, “এই ড্রোন হামলা পুতিনের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে, যা তাকে আকাশপথে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করবে।”
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ৩৩৭টি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৯১টি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে আঘাত হানে। তবে, মস্কোতে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোনই ধ্বংস করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা মস্কোর আকাশপথে ব্যাপক নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি উন্মোচন করেছে এবং এই আক্রমণ রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, মস্কোতে এই হামলার পর মস্কো শহরের চারটি বিমানবন্দরসহ ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো, ঝুকোভস্কি এবং শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পর কয়েকটি ড্রোন আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে, যার ফলে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মস্কোর গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিভ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টের ছবি প্রকাশ করেন, যাতে ভাঙা জানালা ও পোড়া গাড়ির দৃশ্য দেখা যায়।
এই হামলা ঘটেছে এমন সময়ে, যখন ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সৌদি আরবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা করার জন্য জড়ো হচ্ছিলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি আরবে রাশিয়ার সাথে আংশিক যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চালাচ্ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, এবং এর মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে শান্তির প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তবে, রাশিয়া তাদের দখলকৃত কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, এবং কিছু ইউক্রেনীয় সেনা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা কুরস্ক অঞ্চলের সাতটি গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে।
এই হামলা মস্কোতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের আলোচনার প্রেক্ষাপটে, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ধরনের আক্রমণগুলো যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
পড়ুন : পুতিনকে হাতি উপহার মিয়ানমার জান্তার
দেখুন : বিশ্ব মশা দিবস আজ, জানেন কেন?
ইম/


